ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি মাসদুপুই ১৭ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিমের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই পক্ষের আলোচনার মূল বিষয় ছিল সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর পুলিশিং। বৈঠকের ফলস্বরূপ উভয় দেশ সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমর্থন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
বৈঠকের তথ্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মাদ তালেবুর রহমানের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফরাসি রাষ্ট্রদূত ও সিটিটিসি প্রধানের আলোচনার পর, রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সের স্বয়ংসম্পূর্ণ টিম, বোমা নিষ্কাশন দল এবং বোমা ডাটা সেন্টার পরিদর্শন করেন। এই সফরটি সিটিটিসি ইউনিটের কার্যক্রমের সরাসরি পর্যবেক্ষণকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।
সাক্ষাৎকারের সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব এবং সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ফরাসি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে ফ্রান্সের কূটনৈতিক উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, যেখানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরে।
সিটিটিসি প্রধান মো. মাসুদ করিম ফরাসি প্রতিনিধিদের সিটিটিসি ইউনিটের প্রশিক্ষণ, ডেটা বিশ্লেষণ এবং কুকুর স্কোয়াডের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সিটিটিসি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী হুমকি সনাক্তকরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় সক্ষম, যা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে শেয়ার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ফরাসি দলও তাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ বোমা নিষ্কাশন প্রযুক্তি এবং তথ্য বিশ্লেষণ পদ্ধতি উপস্থাপন করে।
বৈঠকের পর, ফরাসি রাষ্ট্রদূত ও মো. মাসুদ করিম আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রম এবং প্রযুক্তি-নির্ভর পুলিশিং নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় করেন। উভয় পক্ষের আলোচনায় তথ্য শেয়ারিং, প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং যৌথ অনুশীলনের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই আলোচনায় সিটিটিসি দলের ডগ স্কোয়াডের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং ফরাসি বোমা ডাটা সেন্টারের ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের তুলনা করা হয়।
এই বৈঠকটি বাংলাদেশ-ফ্রান্স কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দু’দেশের নিরাপত্তা সংস্থা পূর্বে বহুবার তথ্য বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ সেশনের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছে, তবে এইবার প্রযুক্তি-নির্ভর কৌশল এবং ডেটা বিশ্লেষণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং আঞ্চলিক পার্টনারদের দৃষ্টিতে এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক মিটিং সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মশালা, প্রযুক্তি বিনিময় সেমিনার এবং সিটিটিসি ও ফরাসি বোমা ডাটা সেন্টারের মধ্যে তথ্য শেয়ারিং প্রোটোকল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, সিটিটিসি দলের কুকুর স্কোয়াডের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ফরাসি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এই উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে, দু’দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়গুলো আগামী ত্রৈমাসিকে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে, যা সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করবে।
সারসংক্ষেপে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারি মাসদুপুই ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি প্রধানের এই বৈঠক সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষেত্রে প্রযুক্তি-নির্ভর সহযোগিতা এবং তথ্য শেয়ারিংকে কেন্দ্র করে একটি কৌশলগত মাইলফলক স্থাপন করেছে। উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশ-ফ্রান্স নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।



