ঢাকার গুলশানে ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলায় ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের ওপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার দুদকের অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালতে আদেশ দেন।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, টিউলিপ সিদ্দিক পূর্বে প্লট দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই রায়ের পর নতুন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে।
পরোয়ানার সঙ্গে আরেকজন নাম যুক্ত হয়েছে, তা হল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন। উভয়কে পলাতক বলে গণ্য করা হচ্ছে এবং তাই তাদের বিরুদ্ধে জরুরি গ্রেপ্তারি আদেশ জারি করা হয়েছে।
দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম আদালতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন রাখা হয়েছে।”
প্রসিকিউটরের এই মন্তব্যের পরে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও সংশোধনী দল এখনো আদালতে উপস্থিত হননি, ফলে পরোয়ানার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে আইনগত কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে এই রায়ের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং টিউলিপ সিদ্দিকের আইনগত অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার কথা জানিয়েছে। তবে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সরকার এই মামলাকে দেশের আইনি স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে। সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া বাধাহীনভাবে চলবে।
এই ঘটনার ফলে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কিছুটা চাপ আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে, উভয় দেশের কূটনৈতিক চ্যানেল থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে পূর্বের দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং নতুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া দুটো আলাদা মামলা, যা পৃথকভাবে বিচারাধীন থাকবে। উভয় মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
টিউলিপ সিদ্দিকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির (Labour Party) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, এবং তিনি বাংলাদেশে বহু উন্নয়ন প্রকল্পের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এই মামলায় তার জড়িত থাকা উভয় দেশের মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অধিকন্তু, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টার নাম যুক্ত হওয়ায় এই মামলায় আর্থিক ও পরিকল্পনামূলক দুর্নীতির সম্ভাবনা বাড়ছে। তদন্তকারী দল এখনো সম্পূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আসামিদের পলাতক অবস্থার কারণে আদালত ৮ মার্চের মধ্যে গ্রেপ্তারি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে, যা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি হবে। এই রায়ের পরবর্তী ধাপগুলো কীভাবে গড়ে উঠবে তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



