কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গবেষণার পদ্ধতিতে নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশ্ন তৈরি ও পরীক্ষা চালিয়ে প্রথম সম্পূর্ণ রোবট‑বিজ্ঞানী অ্যাডাম ২০০০-এর দশকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছে।
অ্যাডাম একটি জীববিজ্ঞানীর কাজ অনুকরণ করে ইস্ট (ইস্ট) সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করত এবং ছোট ভ্যানের আকারের রোবোটিক ল্যাবরেটরিতে ফ্রিজার ও রোবোটিক বাহু ব্যবহার করে উত্তর অনুসন্ধান করত। এই ল্যাবের মধ্যে নমুনা ভর্তি ফ্রিজার এবং বহু রোবোটিক আর্ম ছিল, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করত।
অ্যাডামের ছোট সংখ্যক আবিষ্কার, যা ২০০০-এর দশকে শুরু হয়, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রথম উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে এখন বিশ্বব্যাপী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে AI‑এর ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে।
২০২৪ সালের রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার AI টুলসের অগ্রদূতদেরকে প্রদান করা হয়, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রভাবকে স্বীকৃতি দেয়। যদিও এই ক্ষেত্রটি এখনও প্রারম্ভিক পর্যায়ে, তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে AI কেবল সহায়ক সরঞ্জাম নয়, বরং স্বতন্ত্র বিজ্ঞানীর মতো কাজ করতে পারে এমন সম্ভাবনা উন্মোচিত হচ্ছে।
সেবাস্টিয়ান মুসলিক, ওস্নাব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটেশনাল নিউরোসায়েন্টিস্ট, এক বছর আগে AI‑এর হাইপ সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন, তবে এখন তিনি বাস্তবিক আবিষ্কারের উদাহরণ উল্লেখ করেন। তার মতে, AI এখন কেবল তত্ত্ব নয়, বাস্তব গবেষণায় ফলপ্রসূ ফলাফল দিচ্ছে।
গণিতবিদ, কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং অন্যান্য গবেষকরা ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি ভিত্তিক AI এজেন্ট ব্যবহার করে সমস্যাকে ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজন হলে ওয়েব অনুসন্ধান করে গভীর উত্তর তৈরি করেন। এই এজেন্টগুলো প্রশ্নকে ছোট কাজের সিরিজে ভাগ করে, যা গবেষণার গতি বাড়ায়।
ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো AI এজেন্টকে অন্যান্য বুদ্ধিমত্তা টুলের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন ওষুধের সন্ধান চালাচ্ছে। একইভাবে ইঞ্জিনিয়াররা ব্যাটারি, কার্বন ক্যাপচার এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য নতুন উপাদান আবিষ্কারে AI‑কে ব্যবহার করছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে।
তবে গবেষণার বেশিরভাগ ক্ষেত্র এখনও মানুষের হাতে পরিচালিত হয়; অ্যাডামের মতো রোবট এখনো ল্যাবের প্রধান অংশ নয়। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারি মার্কাস, একজন জ্ঞানবিজ্ঞানী, উল্লেখ করেন যে AI‑এর মাধ্যমে বিজ্ঞানী কাজের প্রকৃত পরিবর্তন এখনো স্পষ্ট নয় এবং বেশিরভাগ প্রচারমূলক বিষয়ই বেশি।
সারসংক্ষেপে, AI গবেষণায় দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তবে মানব বিজ্ঞানীর সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এখনও অপরিহার্য। ভবিষ্যতে AI কি স্বতন্ত্র বিজ্ঞানীর মতো কাজ করবে, নাকি সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবে থাকবে—এটি সময়ের সাথে পরিষ্কার হবে। আপনার মতামত কী?



