পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বুধবার সকালেই সরকারি দপ্তরে পদার্পণ করেন। দুজনেই রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম‑৫ থেকে নির্বাচিত হয়ে সরকারে শামিল হয়েছেন। দপ্তরে পৌঁছানোর সঙ্গে সাথেই মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানিয়ে, উভয়কে শুভেচ্ছা জানায়।
দীপেন দেওয়ান দায়িত্ব গ্রহণের পর উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের লক্ষ্য হল পার্বত্য চট্টগ্রামের সমগ্র জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করে উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার জাতীয়তাবাদের আদর্শকে বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনও দায়িত্ব গ্রহণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সরকারী নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নির্বাচনী এলাকার জনগণের চাহিদা মেটাতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
দুই নতুন কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্মী-কর্মচারীরা তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই অনুষ্ঠানটি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত সকলের মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ দেখা যায়।
বিএনপি নেতারা নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে অতিরিক্ত মনোযোগের দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, পূর্বে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত সরকারকে দায়বদ্ধ রাখতে হবে।
অপরদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বকালীন সময়ে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীপেন দেওয়ানের রাঙ্গামাটির নির্বাচনী জয় এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের চট্টগ্রাম‑৫ জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারে নতুন শক্তি হিসেবে দেখছেন। উভয়ই তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, যা সরকারকে পার্বত্য অঞ্চলের ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের কাজের তালিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সূচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলে সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, মৌসুমী বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা, এবং স্থানীয় শিল্পকে সমর্থন করার জন্য বিশেষ আর্থিক স্কিম।
অধিকন্তু, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক সংহতি বাড়াতে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন নীতি প্রণয়ন করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই নীতিগুলি স্থানীয় শিল্পী ও হস্তশিল্পীদের জন্য বাজার সৃষ্টি, পাশাপাশি পর্যটন শিল্পকে উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে, বাস্তবায়নের পথে আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা প্রয়োজন হবে।
বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে দায়বদ্ধ রাখতে চাপে থাকবে। তারা বিশেষ করে ৩১ দফা কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে, কোনো ধাপ পিছিয়ে না যাওয়ার দাবি করবে।
সারসংক্ষেপে, দীপেন দেওয়ান ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি নতুন সূচনা নির্দেশ করে। সরকারী ও বিরোধী উভয় পক্ষই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



