22 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিদের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিদের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত

বিএনপি নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছে, যার মধ্যে দুজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী এবং একজন টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত। এরা সংসদে নির্বাচিত হননি, তবে পেশাগত দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় যোগদান করেছে।

প্রযুক্তি-ভিত্তিক মন্ত্রিত্বে ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি পূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমিনুল হককে নিযুক্ত করা হয়েছে।

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে নির্ধারিত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। তবে মোট মন্ত্রীর অন্তত এক দশমাংশ সংসদ সদস্য হতে হবে এবং সর্বোচ্চ এক দশমাংশ এমন ব্যক্তিরা হতে পারে, যারা নির্বাচনে অংশ নেয়নি কিন্তু যোগ্যতা সম্পন্ন। এই শর্তই টেকনোক্র্যাট কোটার ভিত্তি গঠন করে।

সংবিধানের ৭৩ক অনুচ্ছেদে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিদের পারস্পরিক অধিকার ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করা হয়েছে। তারা সংসদে বক্তব্য রাখতে পারেন, তবে ভোট দিতে পারবেন না। এছাড়া তারা শুধুমাত্র নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়েই আলোচনা করতে পারবেন, অন্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই।

এই বিধান অনুসারে, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিরা মন্ত্রিসভার সদস্য হলেও সংসদীয় সিদ্ধান্তে সরাসরি ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে তারা নীতি নির্ধারণে প্রভাব রাখতে পারেন, কিন্তু আইনসভার ভোটে অংশ নিতে পারবেন না।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই কাঠামোকে দেশের উন্নয়নের জন্য বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তবে বিরোধী দল ও কিছু বিশ্লেষক টেকনোক্র্যাটদের ভোটাধিকারের অভাবকে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করছেন।

বিএনপি-র মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিরা তাদের বিশেষজ্ঞতা অনুযায়ী নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, যদিও তারা ভোট দিতে পারবেন না। তিনি যোগ করেন, এই ব্যবস্থা সংবিধানিক বিধান অনুযায়ী এবং সরকারের কার্যকরী দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

বিরোধী পক্ষের কিছু নেতা বলছেন, সংসদে ভোট না দিতে পারা মন্ত্রিদের ক্ষমতা সীমিত হবে, যা নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তারা টেকনোক্র্যাট কোটার পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের দাবি তুলেছেন।

এই বিতর্কের মধ্যে, বাংলাদেশ সরকার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিদের জন্য নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা সংবিধানিক ভিত্তিতে বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সরকার বলছে, মন্ত্রিসভার কার্যক্রমে তাদের অবদান অপরিহার্য, তবে ভোটের অধিকার সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিদের উপস্থিতি নীতি গঠনে প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে, তবে তাদের ভোটাধিকারের অনুপস্থিতি পার্লামেন্টের সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।

অবশ্যই, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিদের ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা সংবিধানের ধারাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই কাঠামো কীভাবে কাজ করবে, তা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার গতি ও সরকার-বিরোধী সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল।

সংসদে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিদের উপস্থিতি নতুন সরকারকে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানভিত্তিক নীতি গঠনে সহায়তা করবে, তবে ভোটের অভাব তাদের প্রভাবকে সীমিত করতে পারে। এই দ্বিমুখী প্রভাবের মূল্যায়ন আগামী সেশনে স্পষ্ট হবে।

বিএনপি-র নতুন মন্ত্রিসভার গঠন ও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিদের সংবিধানিক সীমাবদ্ধতা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে, যা পরবর্তী সপ্তাহে পার্লামেন্টের আলোচনায় প্রতিফলিত হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments