নতুন ক্যাবিনেট গঠন পর ক্যাবিনেট ডিভিশনের গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে নেতৃত্বের প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গেজেটের মধ্যে মন্ত্রিপদগুলো ভাগ করা হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জন্য কোনো পূর্ণ মন্ত্রী উল্লেখ করা হয়নি, ফলে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষে কে থাকবে তা স্পষ্ট নয়।
গেজেট অনুযায়ী জয়পুরহাটের সংসদ সদস্য আবদুল বারীকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রাজ্য মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তবে পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি খালি রাখা হয়েছে, যা সাধারণত মন্ত্রণালয়ের কাজের তত্ত্বাবধানে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দায়িত্বের দিকে ইঙ্গিত করে।
প্রথাগতভাবে পূর্ণ মন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে রাখা হয়, তবে এই গেজেটের শেষের দিকে প্রকাশিত নোটিশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী তারেকের দায়িত্বেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষে কে থাকবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক বর্তমানে ক্যাবিনেট ডিভিশন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের তত্ত্বাবধান করছেন। এই তিনটি দপ্তরের পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের অনুপস্থিতি প্রশাসনিক সমন্বয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারী সেবা ব্যবস্থাপনা, সিভিল সার্ভিসের নিয়োগ ও পদোন্নতি, এবং নীতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষে স্পষ্ট দায়িত্ববহনকারী না থাকলে সিভিল সার্ভিসের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিলম্বের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
গেজেট প্রকাশের পর ক্যাবিনেট সেক্রেটারি নাসিমুল গানি সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। গানির কাছ থেকে স্পষ্টিকরণ না পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি বাড়ছে।
ক্যাবিনেট ডিভিশন সেক্রেটারি (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহিদা পারভীনকে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। পারভীন গেজেটের বিষয়বস্তু বা মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কাঠামো সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন যে, মন্ত্রণালয়ের শীর্ষে পূর্ণ মন্ত্রীর অনুপস্থিতি প্রশাসনিক অগ্রগতি ও নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তারা দ্রুত স্পষ্ট দায়িত্ববহনকারী নির্ধারণের দাবি জানিয়ে সরকারের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা সিভিল সার্ভিসের কর্মী morale-তে প্রভাব ফেলতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রকল্পের সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারে। এই দিক থেকে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।
গেজেটের বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারী সূত্র থেকে স্পষ্টিকরণ আসা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে অস্থায়ী স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।
পরবর্তী সময়ে ক্যাবিনেট ডিভিশন গেজেটের সংশোধনী প্রকাশের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর নাম নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বেও না থাকে, তবে নতুন পূর্ণ মন্ত্রী নিযুক্ত করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী না থাকায় নেতৃত্বের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে, যা সরকারী প্রশাসনের কার্যকারিতা ও সিভিল সার্ভিসের পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে। স্পষ্ট দায়িত্ববহনকারী নির্ধারণের জন্য সরকারী ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপের অপেক্ষা অবশিষ্ট।



