স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় জানালেন, নবগঠিত বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম দিনই একটি ক্যাবিনেট মিটিং অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের দিকনির্দেশনা ও কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন।
ক্যাবিনেট মিটিং শেষে প্রধানমন্ত্রী সকল মন্ত্রী ও সচিবদের উদ্দেশ্যে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, যার মধ্যে জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ম্যানিফেস্টোর বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সভার পর সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে বললেন, সরকার প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে গিয়ে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত অগ্রাধিকারগুলোতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা, বিদ্যুৎ‑জ্বালানি খাতে সমস্যার সমাধান এবং গ্যাস‑বিদ্যুৎ সংযোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার বাজারে মূল্যের অস্থিরতা কমাতে সরবরাহ‑চাহিদার সমন্বয় এবং মূল্যসীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা চালু করবে বলে জানায়। একই সঙ্গে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমে ত্বরান্বিত সমন্বয় ও অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সরবরাহ চেইন বজায় রাখতে কৃষি, খাদ্য ও মৌলিক পণ্যের উৎপাদন‑বিতরণে বাধা দূর করার জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়ন করা হবে। এদিকে, বিদ্যুৎ‑জ্বালানি খাতে বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে নতুন প্রকল্পের অনুমোদন ও বিদ্যমান কেন্দ্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা হবে।
গ্যাস‑বিদ্যুৎ সংযোগকে অগ্রাধিকার দিতে সরকার গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের শিল্পখাতের উৎপাদনশীলতা ও গৃহস্থালির বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সচিবদের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ম্যানিফেস্টোর প্রতিটি ধাপকে অগ্রাধিকার দেবার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ম্যানিফেস্টোর ওপর ভোট দিয়েছে, তাই সেই ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদও এ কথাগুলো পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সরকার কর্মে পারদর্শিতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে ব্যক্তিগত সংযোগ বা পার্টি‑ভিত্তিক সম্পর্ককে বিবেচনা করবে না। তিনি যোগ করেন, সকল প্রার্থী ও কর্মীকে তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে, যাতে সেবা প্রদানকারী সংস্থার কার্যকারিতা সর্বোচ্চ হয়।
এই অগ্রাধিকারগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য সরকার সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্থাপন এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে মনোযোগ দেবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফলাফল উপস্থাপন করতে হবে, যাতে অগ্রগতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
অগ্রাধিকার ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা সরকারের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, অগ্রাধিকারগুলো দেশের মৌলিক সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে, তবে বাস্তবায়নের গতি ও কার্যকারিতা মূল চাবিকাঠি হবে।
বিএনপি সরকারের এই প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার ঘোষণার পর পরবর্তী ধাপ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা হবে। সরকার দাবি করে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এবং ম্যানিফেস্টোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে এই পরিকল্পনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।



