শামা ওবায়েদ, ১৪ মে ১৯৭২ জন্মগ্রহণকারী ৫২ বছর বয়সী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনে ১,২১,৯৯৪ ভোটে জয়লাভের পর বাংলাদেশ সরকার গঠনের পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদে শপথ নেন।
বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে নতুন সরকার গঠন করে। দলটির সভাপতি তারেক রহমান নির্বাচিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
শাপথ গ্রহণের পর শামা ওবায়েদকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, আর মন্ত্রীর দায়িত্বে নিযুক্ত হয় খলিলুর রহমান, যাকে প্রযুক্তিবিদ (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিএনপি সংগঠনগত দিক থেকে শামা ওবায়েদ ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন এবং চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সহায়ক কমিটিতে সদস্য ছিলেন। তার রাজনৈতিক প্রোফাইলের মধ্যে এই দুইটি পদ উল্লেখযোগ্য।
ফরিদপুর-২ আসনের নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে শামা ওবায়েদ সালথা ও নগরকান্দা উপজেলাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা এলাকা থেকে ভোট সংগ্রহ করেন। নির্বাচনে তিনি ১,২১,৯৯৪ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে সংসদে প্রবেশ করেন।
শামা ওবায়েদের পরিবারগত পটভূমি রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। তার পিতা কেএম ওবায়দুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিএনপির প্রাক্তন মহাসচিব, পাশাপাশি জিয়াউর রহমানের সরকারে মন্ত্রী পদে ছিলেন। মা শাহেদা ওবায়েদ শিক্ষক পেশা গৃহীত ছিলেন। শামা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে, বর্তমানে রাজধানীর বনানী এলাকায় বসবাস করেন, তবে তার পারিবারিক বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দার লস্করদিয়া গ্রামে অবস্থিত।
রাজনৈতিকভাবে শামা ওবায়েদ ২০০৭ সালে পিতার মৃত্যুর পর সক্রিয় হন। ২০০৮ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে হারে যান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন, তবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। ঐ সময় পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ধারণ করতেন।
নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত ২০ নভেম্বর নেওয়া হয়, যখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে বাংলাদেশে নাগরিকত্ব পুনরায় গ্রহণ করেন, যাতে নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হতে পারেন। এই পদক্ষেপটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে সম্পন্ন হয়।
শামা ওবায়েদের বিরুদ্ধে মোট ১৮টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১৭টি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি নির্বাচনী হলফনামায় নিজের পেশা ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রার্থিতার সময় শামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের মধ্যে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। ২১ আগস্ট গত বছর দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হন, ফলে উভয়কে দলীয় প্রাথমিক ও সব পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। কয়েক মাস পর এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
শামা ওবায়েদের প্রতিমন্ত্রী পদ গ্রহণের ফলে বিএনপির সরকার গঠনে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও ক্ষমতার পুনর্বণ্টন স্পষ্ট হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণে তার অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পটভূমি কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা আগামী মাসে সরকারী কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



