নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা শহরের গমনপথে ট্রাফিকের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেন, যা আইজিপি বাহারুল আলমের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়। নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য হল জনসাধারণের যাতায়াতে কোনো বাধা না সৃষ্টি করা এবং শহরের রাস্তায় স্বাভাবিক গতি নিশ্চিত করা।
আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারি করা হবে এবং কোনো ধরণের অস্বস্তি না হয় তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্দেশনা সরাসরি তার কাছ থেকে প্রাপ্ত এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বিশেষ করে ব্যস্ত জংশনগুলোতে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে গাড়ির প্রবাহে কোনো বাধা না আসে। তদুপরি, ট্রাফিক সিগন্যালের সময়সূচি অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মৌচাক মোড়ে দায়িত্ব পালনরত এক ট্রাফিক কর্মকর্তা জানান, আজ সরকারী দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন, তাই ট্রাফিক পুলিশ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। তিনি বলেন, নতুন সরকারের দায়িত্বশীলতা এবং কড়া নির্দেশনা অনুসরণে কর্মীরা অতিরিক্ত তৎপরতা দেখিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার, তারেক রহমান নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পর তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই অনুষ্ঠানটি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে, প্রধানমন্ত্রী জিয়া উদ্যানে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল অর্পণ করেন। এই ভিজিটটি দেশের শীর্ষ নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যালের নিয়ম মেনে চলেছে। এক পর্যায়ে গাড়িগুলো সিগন্যালের লাল আলোতে থেমে থাকে, পরে আবার চলা শুরু করে। এইভাবে গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর গমনপথে কোনো অপ্রয়োজনীয় রোডব্লকেজ বা ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয়নি। শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো অসুবিধা হয়নি।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ রোড সাইডে উপস্থিত ছিল এবং গাড়ির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে, তারা গাড়ির সঠিক লাইন বজায় রাখতে এবং সিগন্যালের সময়মতো পরিবর্তন নিশ্চিত করতে মনোযোগী ছিল।
এই ধরনের তৎপরতা নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসে জনসাধারণের কাছে সরকারের দায়িত্বশীলতা এবং সেবা মানের প্রতি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ভবিষ্যতে আরও সুষ্ঠু রোড ব্যবস্থার আশা জাগিয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সরকারী দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণের সুবিধা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ট্রাফিকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে নেওয়া এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর গমনপথে ট্রাফিকের স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া এই ব্যবস্থা, আগামী দিনগুলোতেও চালু থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার ও পুলিশ উভয়ই জনসাধারণের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।



