ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – রোজা মাসে মূল পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ সরকার আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছে যে, রোজা চলাকালীন বাজারে কোনো ধরনের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা সরবরাহের ঘাটতি না ঘটে। নির্দেশিকায় পুলিশকে হোলসেল ও রিটেইল বাজারে নজরদারি বাড়াতে, স্টক পাম্পিং ও হোর্ডিং রোধে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ে চালু হওয়া মূল্যবৃদ্ধির উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ভাত, তেল, চিনি ও গমের দাম গত কয়েক মাসে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একত্রে বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি তদারকি কমিটি গঠন করেছে, যার সদস্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত।
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো বিক্রেতা যদি মূল্য সীমা অতিক্রম করে বা সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে, তবে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে। শাস্তির মধ্যে রয়েছে জরিমানা, ব্যবসা বন্ধের আদেশ এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনকে বাজারে পণ্যের যথাযথ বিতরণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গুদাম ও রিক্লেমেশন সিস্টেম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশকারী প্রধান বিরোধী দলীয় নেতারা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও পর্যাপ্ত তদারকি না থাকলে বাস্তব ফলাফল নাও আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। তারা দাবি করেছেন যে, বাজারে স্বচ্ছতা ও তথ্যের প্রকাশনা না হলে ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। বিরোধীরা সরকারকে রিয়েল-টাইম মূল্য তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জনসাধারণের আস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা রোজা মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণকে সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। রোজা মৌসুমে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা সরাসরি সরকারের জনপ্রিয়তা ও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। সফল বাস্তবায়ন হলে সরকারকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষমতা প্রমাণ করতে সহায়তা করবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রোজা মাসে বিশেষ বাজার পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যেখানে মূল্য, সরবরাহ ও চাহিদার তথ্য রিয়েল-টাইমে সংগ্রহ করা হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে নীতি সমন্বয় করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, রোজা মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সেক্টরের সমন্বয়ে গঠিত। এর ফলাফল দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



