মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জেনিভা শহরে দুই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংকটের সমাধান নিয়ে দুজন বিশেষ দূতকে একসাথে কাজ করতে নির্দেশ দিলেন। স্টিভ উইটকফকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং জ্যারেড কুশনারকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করতে পাঠানো হয়। উভয় মিশন একই দিনে, একই শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
ইরান‑সংশ্লিষ্ট আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র‑ইরান পরোক্ষ সংলাপের জন্য ওমানের মধ্যস্থতা ব্যবহার করা হয়। উইটকফ ও কুশনার প্রায় তিন ঘণ্টা সময়ে তেহরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে নিরাপদ পরিবেশে আলোচনা চালালেন।
রাশিয়া‑ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানের জন্য কুশনার ইউক্রেনীয় ও রাশিয়ান প্রতিনিধিদের সঙ্গে টেবিলে বসে শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। দু’পক্ষের মধ্যে স্থগিতাদেশ ও শাস্তি হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক ধারণা বিনিময় হয়।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম বছরে একাধিক সংঘাতের সমাপ্তি দাবি করার পরবর্তী কূটনৈতিক চালনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক চুক্তি সংগ্রহ করে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তবে একই দিনে দুইটি ভিন্ন ভৌগোলিক দূরত্বের সংকট একসঙ্গে সামলানোর সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি, রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী।
বিশেষজ্ঞরা জেনিভাকে কূটনৈতিক মঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়ার যুক্তি তুলে ধরছেন যে শহরটি বহু আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতার সাক্ষী হয়েছে। তবে একই স্থানে একই সময়ে ইরান ও ইউক্রেন বিষয়ক আলোচনা করা কূটনৈতিক দক্ষতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের পররাষ্ট্র নীতি পরামর্শদাতা ব্রেট ব্রুয়েনের মতে, ট্রাম্পের এই পদ্ধতি পরিমাণের ওপর বেশি জোর দেয়, গুণগত বিশ্লেষণকে উপেক্ষা করে। তিনি কূটনৈতিক কৌশলে একাধিক বিষয় একসঙ্গে সমাধান করার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ব্রুয়েন বর্তমানে গ্লোবাল সিচুয়েশন রুমের প্রধান হিসেবে কৌশলগত পরামর্শ দিচ্ছেন এবং তিনি উল্লেখ করেন যে জেনিভার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইরান সংক্রান্ত সংলাপের জন্য কঠোরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।
ইরান আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবিগুলি পুনরায় তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, ইরানকে তার পারমাণবিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।
ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রে কুশনার ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাশিয়ার আক্রমণ বন্ধের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত প্রস্তাব করেন। রাশিয়া পক্ষের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
দুইটি মিশনের সমাপ্তি এখনও অনিশ্চিত, তবে উভয় দিকই উল্লেখ করেছে যে পরবর্তী সপ্তাহে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দল জেনিভা থেকে ফিরে গিয়ে ওয়াশিংটনে নীতি নির্ধারণের জন্য তথ্য সংকলন করবে।
বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে এই সমান্তরাল কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কীভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথকে প্রভাবিত করবে তা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি রাখছেন। ইরান ও ইউক্রেন বিষয়ক সমাধান যদি সফল হয়, তবে ট্রাম্পের কূটনৈতিক কৌশলকে নতুন দৃষ্টিতে দেখা হতে পারে; অন্যথায়, একই দিনে দুইটি সংকট সামলানোর পদ্ধতি সমালোচনার মুখে পড়তে পারে।



