তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন আজ ঢাকা সেক্রেটারিয়েটে সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছেন, সরকার সাংবাদিকতার জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। তিনি এই মন্তব্য করেন, যখন গতকাল বিকেলে ৪৯ সদস্যের নতুন ক্যাবিনেট শপথ গ্রহণ করে, যার নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আছেন।
নতুন ক্যাবিনেটের শপথের পর স্বপন, যিনি একই সময়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন, দুপুর প্রায় ১:১৫টায় সেক্রেটারিয়েটে উপস্থিত হন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে বিষয়টি তুলে ধরেন। তার উপস্থিতি এবং বক্তব্য নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম সরকারি দায়িত্ব পালনকে চিহ্নিত করে।
মন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে স্বপন জানান, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্যে তিনি মানুষের মানসিক কষ্ট ও ভয়কে ঘনিষ্ঠভাবে অনুভব করেছেন, বিশেষ করে যারা মিডিয়ার মতো সংবেদনশীল পেশায় কাজ করেন। তিনি বলেন, “যদি কোনো কর্মী ক্রমাগত নজরদারির মুখে থাকে, তবে তার কাজের স্বাভাবিকতা ও স্বাধীনতা প্রভাবিত হয়।”
স্বপন আরও উল্লেখ করেন, সরকার ইতিমধ্যে মিডিয়া স্বাধীনতা সম্পর্কিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই পরিকল্পনাকে কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দেন, “মিডিয়া সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আমরা জানি, এবং সরকারী পরিকল্পনায় মিডিয়া স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; তাই ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা একটি নিরাপদ ও ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করবে।”
এই ঘোষণার পর বিরোধী দল এবং স্বাধীন বিশ্লেষকরা সরকারের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। তবে স্বপন উল্লেখ করেন, নতুন ক্যাবিনেটের নীতি ও কর্মসূচি মিডিয়া ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দিকে লক্ষ্য রাখবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সরকারী দপ্তর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মিডিয়া সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালার পুনর্বিবেচনা শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনধিকারিক নজরদারি বন্ধ করা এবং প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে দেশের সংবাদমাধ্যমের কাজের পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সুনাম বাড়াবে। স্বপন উল্লেখ করেন, “মিডিয়া স্বাধীনতা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ; তাই আমরা এই দিকটি অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করব।” ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে এবং মিডিয়া সংস্থাগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



