সাহিবজাদা ফারহান ১০০* রান করে পাকিস্তানকে ১৯৯/৩ স্কোরে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে টি২০ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ী করিয়েছেন। ম্যাচটি কলম্বোর আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বুধবার অনুষ্ঠিত হয় এবং পাকিস্তানের জন্য জয় নিশ্চিত করা ছিল অপরিহার্য, কারণ পূর্বে ভারত এ-র কাছে হারে দলটি বাদ পড়ার ঝুঁকিতে ছিল।
টস জিতে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয়। শুরুর দিকে ফারহান ৪০ রান করে সাইম আয়ুবের (১৪) সঙ্গে একটি দৃঢ় খোলার অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। এরপর ক্যাপ্টেন সালমান আঘা (৩৮) এর সঙ্গে ৬৭ রানের দ্বিতীয় উইকেট পার্টনার তৈরি করে দলকে স্থিতিশীল করে তোলেন।
ফারহানের আক্রমণাত্মক খেলা ৯০ তে পৌঁছালে আরও তীব্র হয়। তিনি দ্রুতগতির বোলার জ্যাক ব্রাসেলকে ছয় এবং চারের সংমিশ্রণে ৯০ এর কাছাকাছি নিয়ে যান, তারপর শেষ ওভারে গেরহার্ড এরাসাসের কাছ থেকে এক রান নিয়ে শতক পূর্ণ করেন। এই অর্ধশতকটি ৫৮ বলে সম্পন্ন হয় এবং এতে তিনি চারটি ছয় এবং এগারোটি চার গড়ে তুলেছেন।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফারহান পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় টি২০ বিশ্বকাপ শতক অর্জনকারী হয়ে ওঠেন; প্রথমজন ছিলেন আহমেদ শেহজাদ ২০১৪ সালে বাংলাদেশে। তাছাড়া, এই টুর্নামেন্টে তিনি তৃতীয় শতককারী হয়ে ইতিহাসে প্রথমবার তিনটি শতক দেখা যায়। পূর্বে শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসান্কা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং কানাডার ইউভরাজ সামা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শতক করেছেন।
শাদব খান, যাকে বাবর আজম বাদ দিয়ে পঞ্চম ক্রমে তোলেন, ২২ বলে ৩৬* রান করেছেন এবং তিনটি ছয় ও একটি চারের মাধ্যমে শেষ তিন ওভারে ৪২ রান যোগ করে স্কোরকে উঁচুতে তুলেছেন। তার দ্রুতগতির আউটপুট শেষ ওভারের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাকিস্তান দলটি শাহীণ শাহ আফরিদি বাদ দিয়েছে, যিনি পূর্বের তিনটি ম্যাচে কমফলিত ছিলেন এবং ভারত এ-র বিপক্ষে দুই ওভারে ৩১ রান দিয়ে দলের ক্ষতি বাড়িয়েছিলেন। এই পরিবর্তন দলকে আক্রমণাত্মক দিক থেকে শক্তিশালী করতে করা হয়।
নামিবিয়া, যদিও টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয়, তবে পাকিস্তানের ধারাবাহিক রানের চাপ সামলাতে পারেনি। ফারহানের শতক এবং শাদবের দ্রুতগতির শেষ ওভারগুলো দলকে ১৯৯/৩ স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে, যা নামিবিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এই জয় পাকিস্তানকে গ্রুপ এ-তে দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করে এবং দলকে পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বা নেদারল্যান্ডস গ্রুপের শীর্ষে উঠে পরবর্তী ধাপে প্রবেশের সম্ভাবনা রাখে।
ক্যাপ্টেন সালমান আঘা ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং ফারহানের শতককে দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এই ধরনের পারফরম্যান্সের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
পাকিস্তানের কোচিং স্টাফও ফারহানের আক্রমণাত্মক শৈলীর প্রশংসা করে বলেন, তার দ্রুত স্কোরিং ক্ষমতা টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে সঠিক পথে নিয়ে যায়। শাদব খানের নম্বর পাঁচে উত্থানও দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়ায়।
পরবর্তী ম্যাচে পাকিস্তান গ্রুপ এ-র শীর্ষে থাকা দলগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা টুর্নামেন্টের অগ্রভাগে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখবে। দলটি এখন পর্যন্ত দুইটি জয় পেয়েছে এবং তৃতীয় ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে।
এই ম্যাচের পরিসংখ্যান এবং পারফরম্যান্স টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে, যেখানে তিনটি শতক একসাথে দেখা যায়। ফারহানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্ধশতক এবং শাদবের শেষ ওভারের আক্রমণাত্মক রণশৈলী টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।



