ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জাতীয় প্রেসক্লাবে তথ্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দেশের গণমাধ্যমের উন্নয়নের জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি সমস্যাগুলো সমাধান করা অপরিহার্য বলে জোর দেন। মন্ত্রীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্বেগ শোনার পর স্পষ্ট করে জানান, সমস্যার সমাধান ছাড়া মিডিয়া খাতের কাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বৈঠকে তথ্য মন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, বেতন ও কর্মপরিবেশে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয় সমাধান না হলে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বজায় রাখা কঠিন হবে, এটাই তার মূল দাবি। তিনি আরও জানান, সরকার এই সমস্যাগুলো সমাধানে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে।
প্রতিমন্ত্রীরাও একই দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করেন এবং জানান, সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করতে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তবে তা যথেষ্ট নয়; অতএব আরও কার্যকরী নীতি প্রণয়ন জরুরি।
বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন না, তবে তিনি পূর্বে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন, তার চলাচলে যেন কোনো জনদুর্ভোগ না হয়। এই নির্দেশের লক্ষ্য হল সরকারি কর্মসূচি ও ভ্রমণকালে সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা, যা সাংবাদিকদের প্রতিবেদনকেও প্রভাবিত করতে পারে।
তথ্য মন্ত্রী অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার এখনো কাজ শুরু করেছে এবং এই প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। তিনি বলেন, স্বাধীন ও স্বচ্ছ মিডিয়া না থাকলে দেশের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা সঠিকভাবে জনসাধারণে পৌঁছাবে না।
সাংবাদিক গোষ্ঠী মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কথায় নয়, বাস্তবে পদক্ষেপের প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত একটি সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠন করে সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক মিডিয়া স্বাধীনতা ও সরকারের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তবে বাস্তবায়ন না হলে তা শুধুই মুখোশ হয়ে থাকবে। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মিডিয়ার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বেতন কাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি চালু করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তথ্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়ই এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।



