25 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচীনের ঝেংজি শহরে আতশবাজি দোকানে বিস্ফোরণ, ১২ জনের মৃত্যু

চীনের ঝেংজি শহরে আতশবাজি দোকানে বিস্ফোরণ, ১২ জনের মৃত্যু

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় ঝেংজি শহরে বুধবার দুপুরে একটি আতশবাজি ও পটকা বিক্রির দোকানে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে অন্তত বারোজনের প্রাণ ত্যাগ করেছে। ঘটনাটি চন্দ্র নববর্ষের ছুটির দ্বিতীয় দিনে ঘটেছে, যখন দেশব্যাপী মানুষ উৎসবের আনন্দে মেতে থাকে।

সিসিটিভি, চীন সরকারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন, অনুসারে বিস্ফোরণটি দুপুর দুইটার কাছাকাছি ঘটেছে। দোকানের ভিতরে সংরক্ষিত পেট্রোলিয়াম‑ভিত্তিক পটকা ও আতশবাজি একসঙ্গে ফেটে গিয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় পঞ্চাশ বর্গমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় অগ্নি নির্বাপন দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা ও ধোঁয়ার কারণে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে ওঠে।

চীনে চন্দ্র নববর্ষের সময় আতশবাজি ও পটকা ব্যবহার একটি প্রচলিত রীতি, তবে গত কয়েক বছরে বেইজিংসহ বেশ কিছু বড় শহরে এই প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অনেক ছোট শহরে এবং গ্রামীণ এলাকায় এখনও এই ধরনের বিক্রয় ও ব্যবহার চালু রয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, দোকানের ভিতরে অগ্নি সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও তদন্তাধীন, তবে অস্থায়ীভাবে বলা হয়েছে যে সংরক্ষিত পণ্যগুলোর অনুপযুক্ত সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিস্ফোরণের ফলে আহতদের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, তবে প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা যায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতদের নাম ও পরিচয় প্রকাশের জন্য পরিবারকে জানানো হচ্ছে।

এই ঘটনার আগে, গত রোববার চীনের পূর্বাঞ্চলের জিয়াংসু প্রদেশে একটি অনুরূপ আতশবাজি দোকানে বিস্ফোরণ ঘটায় আটজনের মৃত্যু এবং দুইজনের আঘাত হয়। উভয় ঘটনার সময় একই ধরনের পণ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

চীন সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় (মিনিস্ট্রি অফ এমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট) উভয় ঘটনার পর দেশব্যাপী আতশবাজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। তদুপরি, নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং বিপদজনক পরিস্থিতি শনাক্ত করতে নিয়মিত পরিদর্শন চালু করা হবে।

জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে যে দোকানের বাইরে পরীক্ষামূলকভাবে আতশবাজি চালু করা, ধূমপান করা বা অন্য কোনো অনিরাপদ আচরণে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে। এই ধরনের আচরণ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং জরুরি সেবা দলকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলে।

অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় পুলিশ ও অগ্নি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে। তারা বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ, পণ্যগুলোর গুণগত মান এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি বিশ্লেষণ করবে। প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চীনের আইন অনুযায়ী, অনুমোদনহীন বা নিরাপত্তা মানদণ্ড না মেনে আতশবাজি উৎপাদন ও বিক্রয় করা কঠোর শাস্তির আওতায় পড়ে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা অপরাধমূলক দায়ের মুখে পড়তে পারেন, যার মধ্যে জরিমানা, ব্যবসা বন্ধ করা এবং কারাদণ্ড অন্তর্ভুক্ত।

এই দু’টি ধারাবাহিক ঘটনার পর সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। নাগরিকদেরও উৎসবের সময় নিরাপদ আচরণ বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এধরনের দুঃখজনক ঘটনা রোধ করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments