ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬—বাণিজ্যমন্ত্রী আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন যে তিনি তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাংলাদেশকে এলডিসি (Least Developed Country) তালিকা থেকে তিন বছর দেরি করার লক্ষ্য রাখবেন। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা।
মন্ত্রীর মতে, বর্তমান উন্নয়ন সূচকগুলো ইতিমধ্যে পূর্বের অনুমানকে ছাড়িয়ে গেছে, ফলে এলডিসি তালিকায় থাকা সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার ইতিমধ্যে অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা এই দেরির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
একই সময়ে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইজিপি (ইনস্পেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ)কে সতর্ক করা হয়েছে যে, তার যেকোনো পদক্ষেপে জনদুর্ভোগ না হয়। এই নির্দেশের লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো বাধা না সৃষ্টি করা।
বাণিজ্যমন্ত্রী এছাড়াও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি “শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ” গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। তিনি বলছেন, দেশের স্বাধিনতা ও স্বাধীনতার জন্য শহীদদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করা এখন সরকারের অগ্রাধিকার।
মন্ত্রীর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে, সরকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ত্বরিতভাবে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি গ্রহণের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনকে সমর্থন করে বিভিন্ন শিল্প সমিতি ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এলডিসি তালিকায় দেরি হলে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক সুবিধা বজায় থাকবে, যা দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক সরকারকে সতর্ক করেছেন যে, দেরি করার লক্ষ্য অর্জনের জন্য কেবল সূচক উন্নয়নই নয়, দীর্ঘমেয়াদী টেকসই নীতি প্রয়োজন। তারা উল্লেখ করেন, যদি উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলো অস্থায়ী হয়, তবে ভবিষ্যতে পুনরায় এলডিসি তালিকায় ফিরে আসার ঝুঁকি থাকতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর, বাংলাদেশ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাজেট পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইজিপি যে সতর্কতা দিয়েছেন, তা নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমে জনসাধারণের অধিকার রক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরে। পুলিশ বিভাগ এখন থেকে যেকোনো অভিযান বা রোডব্লকিংয়ের সময় স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আমরা এখনই কাজ শুরু করেছি” এবং এই কাজের জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘোষণার পর, পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটি শীঘ্রই একটি সেশন আয়োজন করবে, যেখানে নীতি নির্ধারক ও শিল্প প্রতিনিধিরা মতামত বিনিময় করবেন।
দীর্ঘমেয়াদে, এলডিসি তালিকায় দেরি করার ফলে আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা ও আর্থিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বজায় থাকবে, যা দেশের অবকাঠামো প্রকল্প ও মানব উন্নয়ন কর্মসূচিতে অতিরিক্ত তহবিল সরবরাহ করতে পারে। সরকার এই সুবিধা ব্যবহার করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা করেছে।
সারসংক্ষেপে, বাণিজ্যমন্ত্রীর আজকের ঘোষণা দেশের অর্থনৈতিক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। তিন বছরের দেরি লক্ষ্য অর্জনের জন্য নীতি, বাজেট ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা দ্রুত গঠন করা হবে, পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমে জনদুর্ভোগ রোধের জন্য আইজিপির নির্দেশ মেনে চলা নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপের প্রভাব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সূচকে কীভাবে প্রকাশ পাবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।



