অস্ট্রেলিয়ার গায়িকা-গীতিকার সিয়া ফার্লার ২০২৫ সালে স্পটিফাই‑এর গ্লোবাল ইম্প্যাক্ট লিস্টে আবার শীর্ষে উঠে দেশের সঙ্গীত রপ্তানির মুখ্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এই তালিকায় বিশ্বব্যাপী অস্ট্রেলিয়ান শিল্পীর স্ট্রিমের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়, তবে অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ শোনার সংখ্যা বাদ দেওয়া হয়। ফলে তালিকাটি আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান সঙ্গীতের প্রকৃত প্রভাবকে তুলে ধরে।
সিয়ার “বিউটিফুল পিপল” গীতটি ডেভিড গেটারার সঙ্গে সহযোগিতায় তৈরি এবং এই বছর তালিকায় এক নম্বর স্থান দখল করেছে। এটি তার পূর্ববর্তী ২০২৩ সালের শীর্ষ গীত “গিমি লাভ”‑এর পর আবার শীর্ষে ফিরে আসা প্রথম উদাহরণ, যা তাকে গ্লোবাল ইম্প্যাক্ট লিস্টে দু’বার শীর্ষে থাকা প্রথম অস্ট্রেলিয়ান শিল্পী করে তুলেছে।
কেভিন পার্কারের সাইকেডেলিক পপ প্রকল্প টেম ইম্পালা এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখিয়েছে। তার পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম “ডেডবিট” থেকে সাতটি গীত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে চারটি গীত শীর্ষ পনেরের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে “ড্রাকুলা” দ্বিতীয় স্থানে এবং “লোসার” অষ্টম স্থানে অবস্থান করে, যা অ্যালবামের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্দেশ করে।
সিডনি-জন্মের, লস এঞ্জেলেসে বসবাসকারী গায়ক দ্য কিড লারয়িও একই তালিকায় সাতটি ট্র্যাক নিয়ে উপস্থিত। তার গীতগুলোর মধ্যে “আই নো লাভ” (টেট ম্যাক্রের সঙ্গে ডুয়েট) তৃতীয় স্থানে এবং “এ কোল্ড প্লে” নবম স্থানে রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী শ্রোতাদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা স্পষ্ট করে।
টেম ইম্পালা ও দ্য কিড লারয়িও ছাড়াও তালিকায় ডম ডোলা, ডিন লুইস, রুফুস দু সোল, রয়েল ওটিস এবং লিথের মতো অস্ট্রেলিয়ান শিল্পীর নামও উঠে এসেছে। এই শিল্পীরা বিভিন্ন শৈলীতে সঙ্গীত তৈরি করলেও আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তাদের উপস্থিতি একে অপরকে সমর্থন করে এবং অস্ট্রেলিয়ান সঙ্গীতের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
স্পটিফাই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের শিল্পী ও লেবেল পার্টনারশিপের প্রধান লেহা হ্যারিস উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়ান সঙ্গীতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হয়, তা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা উদীয়মান বাজার যাই হোক না কেন। তিনি বলেন, গ্লোবাল ইম্প্যাক্ট লিস্টের তথ্য দেখায় যে সঙ্গীতের সীমানা আর নেই এবং অস্ট্রেলিয়ান শিল্পীরা শোনার অভিজ্ঞতাকে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তুলছে।
ডেটা অনুযায়ী ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান শিল্পীর স্ট্রিমের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র, এরপর যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি। ব্রাজিল ও মেক্সিকোও উল্লেখযোগ্য শোনার সংখ্যা প্রদান করেছে, যা অস্ট্রেলিয়ান সঙ্গীতের বৈশ্বিক পৌঁছানোর পরিসরকে আরও বিস্তৃত করে।
এই ফলাফলগুলো অস্ট্রেলিয়ান সঙ্গীতের আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী অবস্থানকে পুনরায় নিশ্চিত করে। পাঠকরা যদি অস্ট্রেলিয়ান শিল্পীর নতুন রিলিজ ও ক্লাসিক গীতগুলো অনুসন্ধান করেন, তবে তারা বিশ্বব্যাপী সঙ্গীতের প্রবাহে নিজেকে যুক্ত করার একটি সুযোগ পেতে পারেন।



