25 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিফ্রান্স-ভারত এ চুক্তি ও হেলিকপ্টার কারখানা উদ্বোধন

ফ্রান্স-ভারত এ চুক্তি ও হেলিকপ্টার কারখানা উদ্বোধন

মুম্বাইতে ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ভারত এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে ‘বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ হিসেবে দৃঢ় করার ঘোষণা দেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে উভয় দেশের শিল্প ভিত্তিক স্বনির্ভরতা শক্তিশালী করা।

বৈঠকের সময় দুই নেতা একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মধ্যে ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ উৎপাদন এবং ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি অন্তর্ভুক্ত। মোট ২০টিরও বেশি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ায় উভয় দেশের রক্ষা সংস্থার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ম্যাক্রোঁর মুম্বাই সফর শনিবার রাতে শুরু হয় এবং তিনি বুধবার ও বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শীর্ষ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরের শেষ দিনে তিনি ও মোদী একসাথে হেলিকপ্টার ‘H‑125’ এর সমাবেশ কারখানা উদ্বোধন করেন, যা ভারত এ প্রথম বেসরকারি হেলিকপ্টার উৎপাদন ইউনিট হিসেবে কাজ করবে।

মোদি জানিয়েছেন, এই সমাবেশ লাইনটি এয়ারবাস এবং টাটা গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে কর্ণাটকের ভিমাগালে নির্মিত হয়েছে এবং এটি এমন একটি হেলিকপ্টার তৈরি করবে যা মাউন্ট এভারেস্টের শিখরের উচ্চতাতেও উড়তে সক্ষম হবে। এই বৈশিষ্ট্যটি বিশ্বে একমাত্র এবং ভারত এ বিমান শিল্পের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

কারখানাটি মূলত বিভিন্ন উপাদানকে একত্রিত করে সম্পূর্ণ হেলিকপ্টার গঠন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। সমাবেশ লাইনটি আধুনিক রোবোটিক সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় গুণগত নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন দক্ষতা বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং উল্লেখ করেছেন, এই প্রকল্পে প্রায় এক হাজার কোটি ভারত এ টাকার বিনিয়োগ হবে এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। স্থানীয় সরবরাহকারী ও সেবা প্রদানকারীদের জন্য নতুন বাজার খুলে যাবে, যা শিল্পের সমগ্র ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে।

মোদি আরও জানান, এই হেলিকপ্টারগুলো প্রথমে ভারত এ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সরবরাহ করা হবে, তবে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হবে। রপ্তানি পরিকল্পনা গ্লোবাল গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে এবং ভারত এ বিমান রপ্তানি ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতা ব্যবহার করে উচ্চমানের পণ্য উৎপাদনের উদাহরণ। সরকার এই ধরনের বেসরকারি উদ্যোগকে সমর্থন করে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়াতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায়।

ফ্রান্সের দৃষ্টিকোণ থেকে এই চুক্তিগুলি ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে ভারত এ কৌশলগত সমন্বয়কে শক্তিশালী করে। ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেছেন, ভারত এ সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ইউরোপের এশিয়া নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলকে সমৃদ্ধ করবে এবং উভয় দেশের শিল্প ভিত্তিক পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়াবে।

দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তিগুলি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। সামরিক সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিময় উভয় দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে নতুন আলোচনার বিষয় তৈরি করবে এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের ভিত্তি গড়ে তুলবে।

সারসংক্ষেপে, মুম্বাই বৈঠকে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও হেলিকপ্টার সমাবেশ কারখানার উদ্বোধন ফ্রান্স-ভারত এ সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়িয়ে উভয় দেশের শিল্প ক্ষমতা ও রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিথস্ক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments