বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই সপ্তাহে জার্মানি ও ইসরায়েলকে যুক্ত করে একটি নতুন ফান্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। ফান্ডের নাম ‘ফিউচারন্যারেটিভ ফান্ড’ এবং এটি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও থিয়েটার ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে। উদ্যোগটি ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় এবং শিল্প জগতের দৃষ্টিতে বড় একটি পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
এই বছর উৎসবে রাজনৈতিক মতবিরোধ ও আদর্শগত তর্কের পাশাপাশি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা তীব্রভাবে চলছিল। এমন পরিবেশে ফান্ডের সূচনা শিল্পের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক সংযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ফান্ডের মূল উদ্দেশ্য হল জার্মান ও ইসরায়েলি সৃজনশীল পেশাজীবীদের জন্য স্বতন্ত্র, পেশাদার কাঠামো গড়ে তোলা। এই কাঠামো উচ্চমানের যৌথ প্রযোজনাকে সমর্থন করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে।
প্রতিষ্ঠাতারা উল্লেখ করেছেন যে ফান্ডটি প্রতিষ্ঠিত শিল্পকর্মী ও নবীন প্রতিভা উভয়ের জন্য সমান সুযোগ প্রদান করবে। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা একত্রিত করে এমন প্রকল্প তৈরি করা হবে যা উভয় দেশের সংস্কৃতির সমৃদ্ধি ঘটাবে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পন্ন কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ফলে তৈরি হওয়া চলচ্চিত্র ও নাটকগুলো ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।
প্রতিষ্ঠাতাদের মতে, আজকের বিশ্বকে সহানুভূতির ভিত্তিতে গড়তে হলে আজই এমন গল্প বলা দরকার যা মানুষের হৃদয়ে সংযোগ স্থাপন করে। সংস্কৃতি কেবল পার্শ্ববর্তী কার্যকলাপ নয়, বরং সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রীয় মঞ্চ।
ফান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শারন অন জোর দিয়ে বলেছেন যে সংস্কৃতি সমাজের মূল আলোচনার ক্ষেত্র এবং তা অবহেলিত হলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ে। তাই ফান্ডের কাজকে কেবল প্রতীকী নয়, বাস্তবিক সহযোগিতা হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।
লিহি নাগলার, যিনি চলচ্চিত্র গবেষক ও কিউরেটর, তাও জোর দিয়েছেন যে জার্মান-ইসরায়েলি সহযোগিতা এখন কেবল নামের দিক নয়, বরং একটি দায়িত্ব। ভুল বর্ণনা ও বিকৃত কাহিনীর মুখে নীরব থাকা সম্ভব নয়; পেশাদার কাঠামোই সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের মূল চাবিকাঠি।
প্রযোজক ও সুরকার মার্ক পিনহাসভ ফান্ডের আর্থিক দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন যে প্রকল্পগুলোর আন্তর্জাতিক স্তরে টেকসইতা নিশ্চিত করা হবে। কেবল প্রতীকী সেতু নয়, বাস্তবিক কাজের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
সংস্কৃতি সমাজে বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এ কথায় তিনি একমত। ফান্ডের মাধ্যমে এমন কাজকে সমর্থন করা হবে যা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াবে।
ফান্ডের অর্থায়ন মিশ্র পদ্ধতিতে হবে; ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক সংস্থার স্পনসরশিপ এবং সরকারি তহবিলের সমন্বয়ে এটি চালু হবে। এই মডেল দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
সংগঠকরা উল্লেখ করেছেন যে এককালীন উদ্যোগের বদলে ধারাবাহিক সহযোগিতা গড়ে তোলাই ফান্ডের মূল কৌশল। সময়ের সাথে সাথে উভয় দেশের শিল্পী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী পার্টনারশিপে রূপান্তরিত করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বহু শিল্প পেশাজীবী, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সাংস্কৃতিক নীতি নির্ধারক উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই ফান্ডের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী এবং জার্মান-ইসরায়েলি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।



