কোপেনহেগেন আন্তর্জাতিক ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র উৎসব CPH:DOX 2026, ১১ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ড্যানিশ রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে। এই বছরের তেইশতম সংস্করণে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ও সামাজিক অশান্তির প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতে বিভিন্ন থিমের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসবের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হল দর্শকদের জটিল বাস্তবতা বুঝতে সহায়তা করা।
উৎসবের প্রচারমূলক স্লোগান ‘একটি পাগল পৃথিবীর উপর দ্বিগুণ দৃষ্টিপাত’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। এই বাক্যটি বর্তমান বিশ্বে ঘটমান দ্রুত পরিবর্তন ও বিশৃঙ্খলার প্রতি ইঙ্গিত করে। দর্শকরা এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রগুলোকে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করার সুযোগ পাবেন।
প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ২৩তম সংস্করণের জন্য ১১০টিরও বেশি চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের নির্মাতাদের কাজ একত্রিত করে একটি বৈচিত্র্যময় তালিকা গঠন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ, মানবাধিকার, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ের উপর গভীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রদানকারী কাজ রয়েছে।
উৎসবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতের কিছু বিশিষ্ট নামও উপস্থিত হবে। ফরাসি অভিনেত্রী জুলিয়েট বিনশে তার পরিচালনায় debut চলচ্চিত্র ‘In‑I in Motion’ নিয়ে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও এইচবিওর ‘কুল্ট আইকন’ জন উইলসন এবং প্রখ্যাত ডকুমেন্টারিস্ট লুই থেরু একসাথে উপস্থিত থাকবেন।
জুলিয়েট বিনশে ‘In‑I in Motion’ শিরোনামের প্রথম পরিচালনাকার্যটি বড় পর্দায় উপস্থাপন করবেন। তার কাজের পেছনের সৃজনশীল প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ ‘An Evening With Juliette Binoche’ ইভেন্টে আলোচনা হবে। এই সেশনটি চলচ্চিত্র নির্মাণের নানাবিধ দিক উন্মোচন করার লক্ষ্য রাখে।
জন উইলসনকে এইচবিওর সংস্কৃতি আইকন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার স্বতন্ত্র শৈলীর ডকুমেন্টারি সিরিজগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। CPH:DOX-এ তার উপস্থিতি দর্শকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণীয় উপাদান যোগ করবে।
লুই থেরু, যিনি মানবিক ও সামাজিক বিষয়ের উপর গভীর অনুসন্ধানী কাজের জন্য পরিচিত, এইবারের প্রোগ্রামে অংশ নেবেন। তার চলচ্চিত্রগুলো প্রায়ই রাজনৈতিক ক্ষমতার গঠন ও মিডিয়া প্রভাব বিশ্লেষণ করে। উৎসবে তার উপস্থিতি দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে।
উৎসবের শিল্প পরিচালক নিকলাস এংস্ট্রম বলেন, ‘আর্কটিক থেকে অ্যামাজন, গাজা থেকে গ্রিনল্যান্ড, কীভ থেকে ক্রেমলিন পর্যন্ত, CPH:DOX 2026 বিশ্বে চলমান পরিবর্তনের সম্পূর্ণ বর্ণমালা উপস্থাপন করে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে এই অনুষ্ঠানটি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বড় প্রযুক্তি কোম্পানি, অলিগার্কি এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়কে একত্রিত করেছে।
প্রোগ্রামের কেন্দ্রীয় থিম ‘Right Here, Right Now’ মানব ও নাগরিক অধিকারকে কেন্দ্র করে গঠিত। এই অংশে এমন চলচ্চিত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত যা নিয়ম ও স্বাধীনতা ক্রমবর্ধমানভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। দর্শকরা বর্তমান সময়ের অধিকার সংক্রান্ত সমস্যাগুলোকে সরাসরি অনুভব করতে পারবেন।
‘Brain Waves’ থিমটি মস্তিষ্ক, চেতনা এবং প্রযুক্তি কীভাবে মানব অভিজ্ঞতাকে রূপান্তরিত করছে তা অনুসন্ধান করে। নিউরোটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা-চালিত জীবনের নৈতিক দিকগুলোকে এই অংশে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই থিমের মাধ্যমে দর্শকরা ভবিষ্যতের মানবিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করবেন।
এংস্ট্রমের মতে, দ্রুতগতি ও বিভ্রান্তি আধুনিক সমাজকে প্রভাবিত করার সময় ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি জোর দেন যে ডকুমেন্টারি দর্শকদের ধীর করে, জটিলতা উপলব্ধি করতে এবং মূল বিষয়গুলো ধরতে সাহায্য করে। CPH:DOX 2026-এ এই দৃষ্টিকোণ থেকে দু’বার দৃষ্টিপাত করা হবে—বহিরাগত বিশ্ব ও অভ্যন্তরীণ মানবিক অভিজ্ঞতা উভয়ই।
সারসংক্ষেপে, এই বছরের CPH:DOX বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক তারকা, তীক্ষ্ণ থিম এবং বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রের সমন্বয়ে এটি দর্শকদের জন্য সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। উৎসবের শেষ দিন পর্যন্ত কৌতূহল ও আলোচনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।



