অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কার্যক্রম আজ বন্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নতুন বিএনপি সরকারের শপথ গ্রহণের পরপরই নেওয়া হয়েছে, যখন প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বকাল শেষ হয়েছে।
প্রেস অফিসের জানানো মতে, ৪৪ লক্ষেরও বেশি অনুসারী থাকা ফেসবুক পেজটি আর নতুন পোস্ট বা আপডেট পাবেন না। তবে পেজের সব কন্টেন্ট ভবিষ্যতে যেকোনো সময়ে দেখা যাবে, কারণ এটি দেশের ঐতিহাসিক সময়ের নথি হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। অফিসের বার্তায় ১৮ মাসের কাজকালে সমর্থন ও অংশগ্রহণের জন্য অনুসারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে, পেজের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধের কারণ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের কাজ শেষ হওয়া উল্লেখ করা হয়েছে।
পেজের বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কার্যক্রমও সমাপ্ত করা হয়েছে। গ্রুপে দেশ-বিদেশের প্রায় আটশতাধিক সাংবাদিক যুক্ত ছিলেন এবং তা দ্রুত সরকারি সিদ্ধান্ত, নীতি ঘোষনা, নির্বাচন ও সংস্কার সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করার জন্য ব্যবহৃত হতো। গ্রুপের মাধ্যমে সময়মতো তথ্যপ্রদান সম্ভব হওয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই ২০২২-এ গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা গ্রহণ করে। প্রায় দেড় বছর পর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সরকার গৃহীত হয়। নতুন সরকারে বিএনপি পার্টি প্রধানমন্ত্রীর পদে খালেদা জিয়া নয়, বরং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীরূপে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সব বিভাগীয় কার্যক্রম, যার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত, ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে।
প্রেস অফিসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে গত ১৮ মাসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা নির্বাচন, নীতি-ঘোষণা এবং সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ও সক্রিয়তা দেখিয়ে, এই প্ল্যাটফর্মের কার্যকরী ব্যবহারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ায়, এই ধরনের যোগাযোগ চ্যানেলগুলো আর চালু থাকবে না।
সামাজিক মিডিয়া ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের বন্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান উপদেষ্টার অফিসের কাজের সমাপ্তি এবং নতুন সরকারের স্বতন্ত্র যোগাযোগ নীতি গঠন করা অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে জনসাধারণের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করবে, তা নতুন প্রশাসনের নীতি নির্ধারণের বিষয় হবে। বর্তমান সময়ে, ফেসবুক পেজের আর্কাইভ হিসেবে সংরক্ষণ করা তথ্যগুলো গবেষক, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিকের জন্য ঐতিহাসিক রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।



