ব্রিটিশ টিম জিবি কर्लাররা পূর্ণ‑সময় ক্রীড়াবিদ হিসেবে গ্রীষ্মের দু’সপ্তাহ ছাড়া পুরো বছরই প্রশিক্ষণে ব্যস্ত। তারা প্রতি বছর প্রায় ৪৪ সপ্তাহ বরফের উপর কাটায় এবং গ্রীষ্মে মাত্র দু’সপ্তাহের ছুটি নেয়। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত, যখন আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করে, তারা স্টার্লিংয়ের ন্যাশনাল কার্লিং একাডেমিতে প্রতিদিন সকাল আটটায় উপস্থিত হয়।
২০০২ সালে সল্ট লেক সিটিতে রোনা মার্টিনের নেতৃত্বে গৃহীত “স্টোন অফ ডেস্টিনি” গেমে ব্রিটেনের প্রথম শীতকালীন স্বর্ণপদক ছিল, যা দেশের ১৮ বছর পরের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণ। সেই সময়ে এই বিজয়কে অল্পই “স্কটিশ গৃহিণীদের দল” বলে হালকাভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যদিও তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা ছিল।
প্রতিটি অলিম্পিক চক্রের চার বছর পরের গ্রীষ্মে কল্পনা করা হয় যে কেবল তখনই কर्लারদের প্রতি মনোযোগ বাড়ে, তবে বাস্তবে তাদের প্রশিক্ষণ বছরের অধিকাংশ সময়ই গোপনে চলে। বর্তমানে কোর্টিনা অলিম্পিকের জন্য স্কটল্যান্ডের দশজন কर्लার টিম জিবি প্রতিনিধিত্ব করছে, এবং তারা সবাই পেশাদার ক্রীড়াবিদ।
প্রতিদিনের রুটিনে দুইটি দুই‑ঘণ্টার বরফ সেশন এবং একটি জিম সেশন অন্তর্ভুক্ত। এই সেশনগুলো সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়, যেখানে প্রথমে বরফে গেমের কৌশল অনুশীলন, পরে শুটিং ও ট্যাকটিক্যাল ড্রিল, এবং শেষের দিকে শারীরিক প্রশিক্ষণ।
সপ্তাহে তিনটি জিম সেশন শক্তি প্রশিক্ষণের ওপর কেন্দ্রীভূত, আর বাকি দুইটি সেশন শারীরিক সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য। শক্তি সেশনে ওজন তোলা, স্কোয়াট, ক্লিন অ্যান্ড জার্ক, স্ন্যাচের মতো অলিম্পিক লিফট অন্তর্ভুক্ত, যা স্প্রিন্টারদের প্রশিক্ষণের মত।
সহনশীলতা সেশনে স্কি মেশিন, রোয়িং মেশিন এবং অ্যাসল্ট বাইক ব্যবহার করা হয়, যা ট্যুর দে ফ্রাঁস সাইক্লিস্টদের পুষ্টি ও শারীরিক চাহিদার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই বহুমুখী প্রশিক্ষণ কেবল শারীরিক শক্তি নয়, কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বাড়ায়।
অনেক ক্রীড়াবিদ সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত একটি জিম সেশন যোগ করে, যাতে শারীরিক ফিটনেসের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এই অতিরিক্ত সেশনগুলো সাধারণত হালকা কন্ডিশনিং বা পুনরুদ্ধারমূলক ব্যায়াম নিয়ে গঠিত, যাতে ক্লান্তি কমে এবং পারফরম্যান্স উন্নত হয়।
প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানে হয়; কোনো ক্রীড়াবিদ ওজনের পাশে বসে সামাজিক মিডিয়া স্ক্রল করে সময় নষ্ট করে না। কোচিং স্টাফ এবং ফিজিক্যাল থেরাপিস্টরা প্রতিটি সেশনের গতি ও তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করে, যাতে আঘাতের ঝুঁকি কমে এবং সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া যায়।
পুরুষ লিড হ্যামি ম্যাকমিলান উল্লেখ করেন, “আমরা অলিম্পিক লিফটের সব ধরণ অনুশীলন করি—ক্লিন অ্যান্ড জার্ক, স্ন্যাচ, স্কোয়াট—এবং স্কি মেশিন, রোয়ার ও অ্যাসল্ট বাইক দিয়ে শারীরিক অবস্থাকে শীর্ষে রাখি।” তার কথায় স্পষ্ট যে কেবল বরফের কৌশল নয়, শারীরিক প্রস্তুতিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ক্লিন অ্যান্ড জার্কের মতো লিফটের সংখ্যা ও ওজনের পরিমাণ নিয়মিত রেকর্ড করা হয়, যাতে অগ্রগতি ট্র্যাক করা যায় এবং প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সামঞ্জস্য করা যায়। এই ডেটা বিশ্লেষণ করে কোচরা ব্যক্তিগত শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে, ফলে প্রতিটি ক্রীড়াবিদ তার সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সে পৌঁছাতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসের দিকেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়; ক্যালোরি ও ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ মেনে চলা হয়। ট্যুর দে ফ্রাঁস সাইক্লিস্টদের মতোই, কर्लারদেরও দীর্ঘ সময়ের তীব্র প্রশিক্ষণকে সহ্য করতে উচ্চমানের পুষ্টি প্রয়োজন।
এই কঠোর রুটিনের ফলে টিম জিবি কर्लাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে থাকে এবং পরবর্তী শীতকালীন অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুত হয়। বর্তমানে তারা ইতালির কোর্টিনায় অনুষ্ঠিত হওয়া শীতকালীন গেমের জন্য শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তারা আবার বিশ্বকে তাদের দক্ষতা ও শারীরিক প্রস্তুতির নতুন মাত্রা দেখাবে।
সারসংক্ষেপে, টিম জিবি কर्लারদের প্রশিক্ষণ বছরব্যাপী, কঠোর এবং বহুমুখী। তারা বরফে ৪৪ সপ্তাহ, জিমে শক্তি ও সহনশীলতা প্রশিক্ষণ, এবং পুষ্টি পরিকল্পনা মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ সিস্টেম গড়ে তুলেছে, যা তাদেরকে অলিম্পিকের শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত করে।



