25 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসিরাজগঞ্জের তুকু ও মুহিত দুজনেই মন্ত্রিপরিষদে, এক পরিবারের দু’মিনিস্টার

সিরাজগঞ্জের তুকু ও মুহিত দুজনেই মন্ত্রিপরিষদে, এক পরিবারের দু’মিনিস্টার

সিরাজগঞ্জের দুই সংসদ সদস্য, ইকবাল হাসান মাহমুদ তুকু (সিরাজগঞ্জ‑২) এবং ডা. এম.এ. মুহিত (সিরাজগঞ্জ‑৬) আজ সরকারে মন্ত্রিপরিষদে যোগদান করেছেন। তুকু জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, আর মুহিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পোস্ট, টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের স্টেট মন্ত্রী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। দুজনের একসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদে থাকা সিরাজগঞ্জের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ তুকু বিএনপি-র অভিজ্ঞ নেতা, যিনি বহুবার সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন এবং পূর্বে বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন সরকারে শক্তি ও বিদ্যুৎ বিষয়ক স্টেট মন্ত্রী পদে কাজ করেছেন। এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রী পদে ফিরে আসার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতের নেতৃত্বে থাকবেন। তুকুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পার্টির ভিতরে প্রভাবকে প্রতিফলিত করে, যা সরকারকে শক্তি নীতি বাস্তবায়নে স্থিতিশীলতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডা. এম.এ. মুহিত প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং একই সঙ্গে তিনটি মন্ত্রণালয়ের স্টেট মন্ত্রী দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি তুকুর বড় বোন তাসমিনা মাহমুদের পুত্র, ফলে দুজনের পারিবারিক সম্পর্ক রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলেছে। মুহিতের নতুন দায়িত্বের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন, পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

সিরাজগঞ্জে একই পরিবারের দুজন মন্ত্রী থাকা প্রথমবারের ঘটনা, যা জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তুকু ও মুহিতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলে নীতি সমন্বয় ও বাস্তবায়নে দ্রুততা আসতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানি ও স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের সংযোগে। স্থানীয় নেতারা এই সমন্বয়কে জেলা উন্নয়নের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন।

বিএনপি-র সিরাজগঞ্জ জেলা যৌথ সচিব রশিদুল হাসান রঞ্জন তুকু ও মুহিতের একসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদে থাকা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুজনের অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক বন্ধন একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে জেলা উন্নয়নের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। তুকুর দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং মুহিতের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে নীতি গঠনে সমন্বয় সাধন সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই নিয়োগে ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন যে পারিবারিক ঐক্য রাজনৈতিক বিরোধ কমিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে দ্রুত অগ্রগতি ঘটাবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ঘাটতি, স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল সংযোগের সমস্যাগুলো সমাধানে দুজনের সমন্বিত প্রচেষ্টা জেলা মানুষের জন্য স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি করবে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, তুকু ও মুহিতের মন্ত্রিপরিষদে যোগদান বিএনপি-র সরকারে অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করেছে। এটি পার্টির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের ভোটারদের মধ্যে পার্টির জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করবে। সরকারের এই পদবিন্যাস তুকুর অভিজ্ঞতা ও মুহিতের নতুন শক্তিকে একত্রে ব্যবহার করে নীতি বাস্তবায়নে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

সারসংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জের তুকু ও মুহিতের একসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্তি জেলা ও দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ নীতি ক্ষেত্রে সমন্বিত কাজের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দুইজনের পারিবারিক বন্ধন ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা একত্রে কাজ করলে জ্বালানি, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হবে, যা স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments