মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় আজ “পরিষ্কার ঢাকা, সবুজ ঢাকা” কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর ও বিরোধী নেতা শফিকুর রহমান সরকারকে জুলাই বিদ্রোহের পর প্রস্তাবিত সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ না নিলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবার ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, তবে বিরোধী দল সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে; অন্যথায় জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা নিজস্ব কণ্ঠে কথা বলবে।
শফিকুর রহমান বলেন, সংস্কার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়া জুলাইয়ের প্রতি অবমাননা। তিনি যুক্তি দেন, জুলাইই সেই মুহূর্ত যা নির্বাচনের দরজা খুলে দেয়; সেই নির্বাচনে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন এবং তিনি নিজে বিরোধী নেতা হিসেবে শপথ নেন। যদি জুলাই না ঘটত, তবে এই রাজনৈতিক অবস্থানগুলো অর্জন করা সম্ভব হতো না, এটাই তার দৃঢ় বিশ্বাস।
শফিকুরের মতে, জুলাইয়ের স্বীকৃতি ও সম্মান অপরিহার্য, এবং সেই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো সংসদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে বাস্তবায়ন করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্কারগুলো কেবল রাস্তার আবর্জনা, নালার ময়লা ও ছড়িয়ে থাকা বর্জ্য নয়, মানুষের মনের অশুদ্ধতাকেও দূর করার লক্ষ্যে হওয়া দরকার।
বিরোধী নেতা উল্লেখ করেন, গতকালই তারা দু’বার শপথ নেয়—একবার সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকবার সংস্কার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সংসদে গিয়ে দেশের মঙ্গলে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে এবং আল্লাহর ইচ্ছা হলে সংস্কার মাধ্যমে সমাজের সব ধরণের ‘আবর্জনা’ নির্মূল করা সম্ভব হবে।
আজকের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শফিকুরের জন্য কেবল একটি পরিবেশগত উদ্যোগ নয়; এটি তার নির্বাচনী এলাকার মানুষ ও দেশের নাগরিকদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানোর মাধ্যম। তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা একটি পরিষ্কার সমাজ গড়ে তোলার সংকল্প প্রকাশ করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শফিকুরের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সরকার সংস্কার পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর না করে, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি ও অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠীর কাছ থেকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি সরকারকে জুলাইয়ের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার জন্য ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, শফিকুর রহমানের আজকের বক্তব্য ও কর্মসূচি সরকারকে জুলাইয়ের পরামর্শিত সংস্কারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে আহ্বান জানায়। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদ ও শফিকুরের বিরোধী নেতা শপথের পটভূমি এই দাবিকে রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রদান করেছে, যা আগামী সপ্তাহে সরকারী নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।



