বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আজ ঢাকা সেক্রেটারিয়েটের প্রথম কার্যদিবসে এলডিসি (কম উন্নত দেশ) থেকে কাতারে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎক্ষণাৎ কাজ শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করা মূল উদ্দেশ্য।
মুক্তাদিরের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দিতে চাই এবং আজ থেকেই প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছি।” তিনি যোগ করেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইআরডির সমন্বয়কে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট নীতি, চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি সাধন করা হবে। এই সমন্বয় প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য নীতি পুনর্বিবেচনা, রপ্তানি-আমদানি কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মন্ত্রীর প্রথম কর্মদিবসে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং নতুন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। দুজনেই মন্ত্রীর ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, সমন্বিত কাজের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। উপস্থিতি মন্ত্রীর পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সমন্বয়কে দৃঢ় করেছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির একসাথে শিল্প ও বস্ত্র‑পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও গ্রহণ করেছেন। এই সংযোজনের ফলে শিল্প, বস্ত্র ও পাট খাতে রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলডিসি উত্তরণ পরিকল্পনায় সমন্বয় সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় মন্ত্রণালয়ের সম্পদ ও নীতি সমন্বয় করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা হবে।
মন্ত্রীর রাজনৈতিক পটভূমি উল্লেখযোগ্য; তিনি ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন নীতিতে প্রয়োজনীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। তার এই ভূমিকা সরকারকে বৈদেশিক নীতি ও বাণিজ্য কৌশলে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমেরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পটভূমি রয়েছে। তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ জেলার বিএনপি সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তার এই অভিজ্ঞতা বাণিজ্য নীতি প্রণয়নে দলীয় সমর্থন ও সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে।
শরীফুল আলম একই সঙ্গে শিল্প ও বস্ত্র‑পাট প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও গ্রহণ করবেন। এই দ্বৈত দায়িত্ব তাকে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য নীতি সমন্বয় করতে সক্ষম করবে। তিনি জানান, এই সমন্বয় দেশের উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরবর্তী ধাপে মন্ত্রিপরিষদ ইআরডি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে সময়সীমা পুনর্বিবেচনা, প্রয়োজনীয় নীতি সংশোধন এবং আন্তর্জাতিক আলোচনার কৌশল নির্ধারণ করবে। টাস্কফোর্সের কাজের অগ্রগতি মাসিক ভিত্তিতে সরকারকে জানানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হবে।
এলডিসি উত্তরণ সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে; এটি দেশের রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের তহবিল নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। সরকার এই পদক্ষেপকে দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ভিত্তি হিসেবে দেখছে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সরকার দাবি করেছে যে সমন্বিত নীতি ও ত্বরিত পদক্ষেপের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোন মাইলস্টোনে পৌঁছাবে তা দেখা বাকি।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ সরকার এলডিসি উত্তরণ সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইআরডির সমন্বয়ে ত্বরিত কাজ শুরু করেছে। নতুন মন্ত্রীর বহুমুখী দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই উদ্যোগকে সমর্থন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার এই পরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার লক্ষ্য রাখবে।



