১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার, নবনিযুক্ত কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সরকারী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে কৃষক কার্ডের দ্রুত বণ্টন শুরু করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন। তিনি ঢাকা সেক্রেটারিয়ার প্রথম কার্যদিবসে দপ্তরে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন।
প্রতিমন্ত্রী প্রথম কর্মদিবসে নিজ দপ্তরে যোগদান করে সরকারি কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য আলোচনা শুরু করেন। তিনি বলেন, আজ থেকে তিনি দাপ্তরিক কাজ শুরু করছেন এবং সব স্তরে সমন্বয় করে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু স্পষ্ট করে জানান, কৃষক কার্ড দেশের কৃষকদের জন্য একটি যুগান্তকারী উপকরণ হবে এবং এর মাধ্যমে সরাসরি সরকারী সহায়তা পৌঁছাবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই কার্ডের লক্ষ্য হল কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দ্রুত তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া।
কার্ডের আওতায় কৃষকরা কেবল সরকারি সহায়তা নয়, আধুনিক কৃষি বীমা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং ডিজিটাল সেবা পেতে সক্ষম হবেন। এতে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বণ্টন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন। তিনি জোর দেন, প্রান্তিক পর্যায়ে কার্ডের বিতরণ কত দ্রুত করা যায়, সেটিই তার প্রাথমিক কাজের কেন্দ্রবিন্দু হবে।
বণ্টন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্ভুল ডাটাবেস তৈরি করা হবে, যাতে প্রকৃত কৃষকদেরই কার্ড প্রদান করা যায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। এই ডাটাবেসের মাধ্যমে কার্ডের ব্যবহার এবং সুবিধা ট্র্যাক করা সহজ হবে।
বিএনপি সরকার গঠনের আগে ডিজিটাল কৃষি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এবং এই কৃষক কার্ড সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার এই উদ্যোগকে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে তুলে ধরেছে।
আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কৃষি খাতের এই অগ্রাধিকার বিষয়টি আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বৈঠকে কার্ডের বণ্টন পরিকল্পনা ও তহবিলের বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রথম দিন সেক্রেটারিয়ায় প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার নির্দেশনা অনুসরণে প্রস্তুতিবোধ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপটি কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা দিয়ে কৃষকদের আয় বাড়ানো এবং উৎপাদন বাড়ানো লক্ষ্য।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আশ্বাস দেন, সময়মতো সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করলে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে। তিনি কার্ডের পূর্ণাঙ্গ বণ্টন শুরু করার সময়সীমা শীঘ্রই জানাবেন।



