29 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসানায়ে তাকাইচি পুনরায় জাপান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ গ্রহণ

সানায়ে তাকাইচি পুনরায় জাপান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ গ্রহণ

জাপান সরকারের নিম্নসভার আজকের অধিবেশনে সানায়ে তাকাইচি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, নির্বাচনের দশ দিন পর। ৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি, অক্টোবর মাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর, ফেব্রুয়ারি ৮ তারিখে অনুষ্ঠিত অপ্রত্যাশিত নিম্নসভার নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তার দলকে শক্তিশালী করে তুলেছেন।

তাকাইচি শপথ গ্রহণের পর জাপান সরকারের রক্ষা ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, বিশেষ করে দেশের ভূখণ্ড ও সামুদ্রিক সীমা রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথা জানান। এই নীতি চীন সরকারের সঙ্গে ইতিমধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ বেইজিং দ্বীপটি নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং জোরালোভাবে প্রতিরোধ করে।

নভেম্বর মাসে তাকাইচি উল্লেখ করেন যে, চীন যদি সামরিকভাবে তাইওয়ান দখল করার চেষ্টা করে, তবে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে। এই মন্তব্যের পর চীন সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, জাপানকে “সৈন্যবাদের পুনর্জাগরণ” করার চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করে। চীন সরকারের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে এই বক্তব্য দেন।

শুক্রবারের পরিকল্পিত নীতি বক্তৃতায় তাকাইচি “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর” (FOIP) কৌশলকে আপডেট করার কথা ঘোষণা করবেন বলে স্থানীয় মিডিয়া জানায়। সরকারী মুখপাত্র মিনোরু কিহারা উল্লেখ করেন, FOIP প্রথম প্রস্তাবের পর থেকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে এবং জাপানকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

প্রায়োগিকভাবে, এই আপডেটের মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (CPTPP) এর মাধ্যমে মুক্ত বাণিজ্যকে উৎসাহিত করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা যুক্তরাজ্য ২০২৪ সালে যোগ দিয়েছে। জাপান সরকার এছাড়াও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গঠন এবং গুপ্তচরবিরোধী আইন প্রণয়নের জন্য প্রাথমিক আলোচনার সূচনা করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

অভিবাসন নীতি কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি শ্রম ঘাটতি ও জনসংখ্যা হ্রাসের সমস্যার সম্মুখীন। তাই তাকাইচি এই নীতি কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন তা স্পষ্ট করেননি, তবে শ্রমিক ঘাটতি মোকাবিলায় কিছু সমন্বয় করা হতে পারে।

অন্যদিকে, তাকাইচি নির্বাচনের সময় যে ভোগ্যকর করের ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। তিনি দুই বছর পর্যন্ত খাবারের উপর ভোগ্যকর কর স্থগিত রাখার পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন, যাতে গৃহস্থালির মুদ্রাস্ফীতি চাপ কমে। এই পদক্ষেপটি বাজারে জাপানের বিশাল সরকারি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ দীর্ঘমেয়াদী সরকারি বন্ডের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাকাইচি শপথ গ্রহণের পর জাপান সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হয়েছে: প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, গোয়েন্দা ও গুপ্তচরবিরোধী আইন প্রণয়ন, এবং অভিবাসন ও কর নীতি সমন্বয়। এই সব পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা।

চীন সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, জাপানের সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে “সৈন্যবাদের পুনর্জাগরণ” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে জাপান সরকার দাবি করে, তার নীতি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মুক্ত বাণিজ্যকে সমর্থন করার জন্য প্রয়োজনীয়।

পরবর্তী সপ্তাহে তাকাইচি যে নীতি বক্তৃতা দেবেন, তাতে FOIP কৌশলের নির্দিষ্ট আপডেট, CPTPP এর নতুন উদ্যোগ, এবং গোয়েন্দা সংস্থা গঠনের সময়সূচি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বক্তৃতা জাপান সরকারের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments