বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে সরকারী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিমানবন্দরের সেবা উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, নতুন সরকার বিমানবন্দরের কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করতে চায়, যাতে টিকিটিং, লাগেজ হ্যান্ডলিং এবং প্রবাসী যাত্রীদের সম্মুখীন সমস্যাগুলো একসাথে সমাধান করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পরিকল্পনা তৈরির প্রক্রিয়ায় সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা হয়েছে। লক্ষ্য হল লাগেজ সংগ্রহের সময় কমিয়ে আনা, যাত্রীদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্যাগ বেল্টে পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরণের দুর্নীতি বা ঘুষের সুযোগ না রাখা। এই পরিবর্তনগুলোকে তিনি “নতুন ভাইব” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করবে।
টিকিটিং ক্ষেত্রে বিদ্যমান সিন্ডিকেটের প্রভাব ভাঙতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও কিছু ফ্লাইটে আসন ফাঁকা থাকে, তবুও টিকিট বিক্রি না হওয়ার পেছনে অবৈধ সংস্থার জড়িততা রয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম দূর করতে নতুন নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে টিকিটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিকল্পিত পরিবর্তনগুলো ধীরে ধীরে হলেও স্পষ্টভাবে নাগরিকদের কাছে প্রকাশ পাবে। তিনি আশ্বাস দেন, এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কিছু মৌলিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে মানুষ নতুন সেবা পদ্ধতির স্বাদ নিতে পারে। এই সময়সীমা নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সরকারকে দায়িত্বশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
গত পনেরো বছরে বিমানবন্দর ও সিভিল এভিয়েশন সেক্টরে যে দুর্নীতি ঘটেছে, তার তদন্তের প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়ভাবে উত্তর দেন যে, কোনো অবৈধ কার্যকলাপ প্রকাশিত হলে তা অবশ্যই তদন্তের আওতায় আসবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শাস্তি পাবে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন অপরাধী জেলখানায় রয়েছে, তবে পুরো সেক্টরকে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত করতে আরও কাজ বাকি রয়েছে।
এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে সেক্টরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। বিশেষ করে পর্যটন শিল্পের প্রসার ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়ানোর জন্য বিস্তৃত কৌশল তৈরি করা হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
এই ঘোষণার ফলে নতুন সরকারকে নাগরিক সেবা ও দুর্নীতি মোকাবেলায় সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণকারী হিসেবে দেখা যাবে। বিমানবন্দরের সেবা উন্নয়ন ও টিকিটিং‑সিন্ডিকেট ভাঙা কেবল যাত্রীদের সুবিধা বাড়াবে না, বরং দেশের পর্যটন খাতের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করবে। ভবিষ্যতে এই সংস্কারগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে সরকারী নীতি ও জনমত গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিমানবন্দর সংস্কার পরিকল্পনা ও টিকিটিং‑সিন্ডিকেট মোকাবেলার এই উদ্যোগগুলোকে বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে গণ্য করছে। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রবাসী ও দেশীয় যাত্রী উভয়েরই সুবিধা নিশ্চিত হয়।



