বিনোদন জগতের দুই বিশিষ্ট নাম, প্রযোজক ভূষণ কুমার এবং চলচ্চিত্র পরিচালক বিকেক অগ্নিহোত্রি, একত্রে একটি নতুন ছবির পরিকল্পনা করছেন। এই প্রকল্পের শিরোনাম ‘অপারেশন সিন্ধূর’ এবং এটি টি-সিরিজ ও আই অ্যাম বুদ্ধা প্রোডাকশনের সমন্বয়ে তৈরি হবে। ছবির দায়িত্ব পরিচালনা করবেন অগ্নিহোত্রি, আর প্রযোজনা কাজের নেতৃত্ব দেবেন কুমার। যদিও এখনো কোনো সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি, তবে শিল্পের ভেতরে ইতিমধ্যে এই সংযোজনের কথা গুঞ্জন তুলেছে।
প্রযোজনা সংস্থা টি-সিরিজ, যা সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রেই বিশাল প্রভাবশালী, এবং আই অ্যাম বুদ্ধা প্রোডাকশন একসাথে এই প্রকল্পে হাত মিলিয়ে কাজ করবে বলে জানা গেছে। দুই সংস্থার সমন্বয় থেকে তৈরি হবে একটি উচ্চ মানের চলচ্চিত্র, যা দর্শকদের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করবে। উভয় সংস্থার পূর্বের সফল কাজের ধারাবাহিকতা এই নতুন ছবিকেও প্রত্যাশিত উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
‘অপারেশন সিন্ধূর’ নামটি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর পাকিস্তান ও পাকিস্তান‑দখলকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলিতে পরিচালিত লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণের কোডনাম থেকে নেওয়া হয়েছে। এই কোডনামটি দেশের নিরাপত্তা নীতি ও কৌশলগত পদক্ষেপের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ছবিতে এই সামরিক অভিযানকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে, ঘটনার পরিণতি ও মানবিক দিকগুলোকে তুলে ধরা হবে।
চিত্রনাট্যটি বিশেষভাবে পাহালগামের এক দুঃখজনক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে, যেখানে নিরপরাধ নাগরিক, প্রধানত পর্যটক, এক ভয়াবহ হিংস্রতার শিকার হয়। সেই দুঃখজনক রক্তপাতের পর যে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনগুলো ঘটেছে, সেগুলোকে চলচ্চিত্রের মূল কাহিনীর অংশ করা হবে। এই ঘটনাটি কাশ্মীরের শান্তি ও নিরাপত্তা প্রশ্নকে নতুন আলোকে উপস্থাপন করবে।
এখনো পর্যন্ত ছবির কাস্ট, শুটিং সময়সূচি এবং অন্যান্য উৎপাদন সংক্রান্ত বিশদ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। শিল্পের ভেতরে এই তথ্যগুলো গোপন রাখা হচ্ছে, যা দর্শকদের মধ্যে কৌতুহল বাড়িয়ে তুলেছে। শীঘ্রই কোনো সরকারি ঘোষণা বা প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হতে পারে, তবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।
‘অপারেশন সিন্ধূর’ চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা শুধু বিনোদনমূলক নয়, বরং এটি দেশের সামরিক কৌশল ও মানবিক দিকের মিশ্রণকে তুলে ধরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দর্শকরা এই ছবিতে বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে নির্মিত নাটকীয়তা ও দৃশ্যমান প্রভাবের সমন্বয় প্রত্যাশা করছেন। শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এমন একটি প্রকল্প যদি সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়, তবে তা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ভূষণ কুমার ও বিকেক অগ্নিহোত্রির এই যৌথ উদ্যোগটি দেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনাকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। টি-সিরিজ ও আই অ্যাম বুদ্ধা প্রোডাকশনের সমর্থনে তৈরি হবে এই ছবি, যা শীঘ্রই আরও বিশদ তথ্যের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। দর্শক ও সমালোচকদের প্রত্যাশা এই ছবির মাধ্যমে নতুন দৃষ্টিকোণ ও গভীরতা পেতে, যা বিনোদন জগতের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।



