অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ পড়ে, এবং ওমানের সঙ্গে নির্ধারিত শেষ ম্যাচের আগেই তাদের টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যায়। দলটি এই সপ্তাহের শেষ ম্যাচে ওমানের মুখোমুখি হবে, তবে ফলাফল ইতিমধ্যে নির্ধারিত বলে এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে ছয়টি শিরোপা জয় করে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে, যা অন্য কোনো দল দুইবারের বেশি করতে পারেনি এবং বর্তমানে তারা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য সত্ত্বেও, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙ দেখায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া প্রথম এবং একমাত্র শিরোপা ২০২১ সালে জিতেছিল, তবে তার পরের দুই টুর্নামেন্টে দলটি গ্রুপ পর্যায়ে নকআউট পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা টিমের জন্য বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, বিশেষ করে তাদের শক্তিশালী ক্রিকেট ঐতিহ্য এবং গুণগত খেলোয়াড়দের বিবেচনায়।
বর্তমান টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগেই টেবিলে নিচে নামিয়ে দেয়া হয়, যা অনেক বিশ্লেষকের প্রত্যাশার বাইরে। দলটি গ্রুপ পর্যায়ে অগ্রসর না হওয়ার কারণ হিসেবে আঘাতজনিত অনুপস্থিতি উল্লেখ করা হচ্ছে, যা তাদের মূল শক্তি হ্রাস করেছে।
বিশেষত, ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স এবং দ্রুতগতির বোলার জশ হেইজেলউড দুজনই আঘাতের কারণে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেনি। তাদের অনুপস্থিতি বোলিং আক্রমণকে দুর্বল করে তুলেছে এবং মিডল ওয়াইলে চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অশ্বিনের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রতি মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দল গ্রুপ পর্যায়ে অগ্রসর না হতে পারা আশ্চর্যজনক এবং এটি টিমের প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়।
অশ্বিনের মতে, অস্ট্রেলিয়া যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করে, তবে তারা আরও বেশি সফলতা অর্জন করতে পারত। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অস্ট্রেলিয়ার সমৃদ্ধ ক্রিকেট সংস্কৃতি এবং মানসম্পন্ন খেলোয়াড়দের সমন্বয় সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাদের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।
যদিও অস্ট্রেলিয়ার এই টুর্নামেন্টে সম্ভাবনা উজ্জ্বল ছিল না, তবু এত দ্রুত বিদায় অপ্রত্যাশিত বলে অশ্বিন মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দলটি গ্রুপ পর্যায়ে অগ্রসর না হওয়া অস্বাভাবিক, যদিও পূর্বে কিছু দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়া গ্রুপের শেষ ম্যাচে ওমানের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, তবে টুর্নামেন্টে তাদের অগ্রগতি ইতিমধ্যে শেষ হওয়ায় এই ম্যাচটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওমানের সঙ্গে এই শেষ খেলায় অস্ট্রেলিয়া কোনো পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ পাবে না, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার অপ্রত্যাশিত পরাজয় ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সুপার ইট ম্যাচের প্রত্যাশা শেষ করে দিয়েছে। দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা এখন বাস্তবায়িত হবে না, যা ভক্তদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
ইতিহাসে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি শিরোপা জয়ের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে গ্রুপ পর্যায়ে আটকে আছে। এই ধারাবাহিকতা দলটির ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সকে ৫০ ওভারের সাফল্যের সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। ৫০ ওভারে তারা সর্বোচ্চ শিরোপা সংখ্যা ধারণ করে, তবে টি-টোয়েন্টিতে তাদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
দলটির বর্তমান গঠন আঘাতজনিত অনুপস্থিতি ছাড়াও অন্যান্য মূল খেলোয়াড়দের অভাবের মুখোমুখি, যা গ্রুপ পর্যায়ে অগ্রগতি কঠিন করে তুলেছে। বোলিং ইউনিটের দুর্বলতা এবং ব্যাটিং লাইনআপের অস্থিরতা দলকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে পিছিয়ে রেখেছে।
অশ্বিনের পরামর্শে, অস্ট্রেলিয়ার মতো সমৃদ্ধ ক্রিকেট সংস্কৃতি ও মানসম্পন্ন খেলোয়াড়দের সমন্বয় পরিকল্পনা করলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরও সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, টিমের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রস্তুতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
অস্ট্রেলিয়ার এই অপ্রত্যাশিত পরাজয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাদের কৌশল ও প্রস্তুতির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে দলটি যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করে, তবে তারা আবার শিরোপা জয়ের পথে ফিরে আসতে পারে।



