সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এলাকায় ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতের অন্ধকারে মোট বিশজন জেলে অপহৃত হয়েছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা নারিকেলবাড়ি ও আমবাড়ি গাছের ঘাঁটি থেকে জাল ছুঁড়তে গিয়ে দস্যুদের আক্রমণের শিকার হন।
অভিযানটি দুইটি স্বতন্ত্র দস্যু গোষ্ঠীর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির অফিসার ইন চার্জ ও ফরেস্ট রেঞ্জার মিল্টন রায়ের মতে, প্রথম গোষ্ঠী আটটি ট্রলারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় এবং আটজন জেলেকে বন্দি করে।
অপহৃত জেলেদের নাম হল হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস এবং উজ্জল কুমার বিশ্বাস। এ সকলের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা এলাকায় অবস্থিত।
একই রাতেই আমবাড়ি ঘাঁটির কাছাকাছি আরেকটি দস্যু দল, সুমন-জাহাঙ্গীরের অধীনে, বারোটি ট্রলার থেকে বারোজন জেলেকে তাড়া করে নিয়ে যায়। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা হলেন কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপ কুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস এবং বাটু বিশ্বাস। এদের বাড়ি পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায় রয়েছে।
অপহৃত জেলেদের পরিবারগুলো তৎক্ষণাৎ স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন জানায়। তারা জোর দিয়ে দাবি করে যে, দস্যুদের কার্যক্রম দমন না করা পর্যন্ত মৎস্যজীবীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবে না।
বন রক্ষক ও ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির অফিসার ইন চার্জ অপহরণ ঘটনার পর তৎক্ষণাৎ টহল কার্যক্রম বাড়ানোর আদেশ দেন।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শরীফুল ইসলামও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেঞ্জের টহল শক্তিশালী করার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, রেঞ্জের সকল রেঞ্জার ও টহল দলকে রাতের সময়ে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগও এই ঘটনার তদন্তে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। দস্যু গোষ্ঠীর সনাক্তকরণ, বন্দি জেলেদের মুক্তি এবং অপরাধীদের গ্রেফতারই এখন প্রধান লক্ষ্য। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, অপহরণ অপরাধ ভারতীয় দণ্ড সংহিতা (IPC) ধারা ৩৬১ এবং ৩৬২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য। সংশ্লিষ্ট দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
প্রশাসনিক দিক থেকে, সমুদ্র ও বন সংরক্ষণ বিভাগের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। এতে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় রাডার, ড্রোন এবং নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো, পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জন্য জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন অন্তর্ভুক্ত।
এই ঘটনার পর মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় মৎস্য সমিতি ও পরিবারগুলো সরকারকে অনুরোধ করছে যে, দীর্ঘমেয়াদে দস্যু কার্যক্রম দমন এবং মৎস্যজীবীদের কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।



