ঢাকার সেক্রেটারিয়েটের সম্মেলন কক্ষে আজ আর্থিক ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান খান চৌধুরী দেশের নিয়ন্ত্রক পরিবেশ নিয়ে সতর্কবার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের শিকলে আটকে আছে এবং অর্থনৈতিক গতিবেগ বাড়াতে তীব্র ডিরেগুলেশন অপরিহার্য।
মন্ত্রীর মতে, নিয়মের অতিরিক্ত জটিলতা সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাজারে সমতাপূর্ণ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে নিয়মগুলোকে সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে প্রত্যেকেরই অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ থাকে।
আহসান খান চৌধুরীর বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে—রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবনতি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে অনেক সরকারি সংস্থা কার্যকরী দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতায় ব্যর্থ হচ্ছে, যা কোনো নীতি বা প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
মন্ত্রীর মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন না করা পর্যন্ত কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পূর্ণ সফল হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা দূর করা, পেশাদার কর্মী নিয়োগ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে সরকারী পরিকল্পনা ও নীতি সঠিকভাবে কার্যকর হয়।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কিছুটা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, ডিরেগুলেশন প্রক্রিয়া যদি সঠিক তদারকি ছাড়া চালু হয়, তবে অনিয়ন্ত্রিত বাজারে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি ও দুর্নীতি বাড়তে পারে। তাই, নিয়ন্ত্রণ কমানোর সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী তদারকি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যবসা সংস্থার প্রতিনিধিরা আহসান খান চৌধুরীর মন্তব্যকে স্বাগত জানান। তারা দাবি করেন, অতিরিক্ত নিয়মাবলী সরিয়ে নিলে নতুন বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়বে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এদিকে, শ্রমিক সংগঠনগুলোও ডিরেগুলেশন প্রক্রিয়ায় কর্মীর অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
মন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সরকার আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করবে বলে জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করে নিয়মের অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো বাদ দিয়ে একটি সহজ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক সিস্টেম গড়ে তুলবে।
ডিরেগুলেশন পরিকল্পনার পাশাপাশি, আহসান খান চৌধুরী প্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করার ইঙ্গিত দেন। এতে পাবলিক সেক্টরের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল, দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং জনসাধারণের সেবা মান উন্নত করা। মন্ত্রীর মতে, যদি প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন না করা হয়, তবে কোনো নীতি বাস্তবায়নই কাঙ্খিত ফল না পেতে পারে।
অবশেষে, আহসান খান চৌধুরী উল্লেখ করেন, ডিরেগুলেশন ও প্রতিষ্ঠান সংস্কার একসাথে না করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থবির থাকবে। তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দেশের নিয়ন্ত্রক পরিবেশকে পুনর্গঠন করে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের মঞ্চ তৈরি করতে।
এই ঘোষণার পর সরকারী পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং কীভাবে তদারকি নিশ্চিত করা হবে, তা আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন ও নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।



