শেখ রাবিউল আলম, রোড ট্রান্সপোর্ট ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, আজ জিয়া উদ্যানের সমাধিতে প্রার্থনা শেষে সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ সরকার কোনো রূপে দুর্নীতিকে সহ্য করবে না এবং তা নির্মূল করা শীর্ষ অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার দুর্নীতির উপস্থিতি বিভিন্ন খাতে স্বীকার করে, তবে তা ধাপে ধাপে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পটভূমি ছিল আনিসুর রহমান জিকো এবং খালেদা জিয়া সমাধিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশ, যেখানে তিনি উভয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রার্থনা করেন। সমাধি পরিদর্শনের পর তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন টেকসই হতে হলে দুর্নীতি দূর করা অপরিহার্য, কারণ এটি সম্পদের অপচয়, অর্থনৈতিক চাপে বৃদ্ধি এবং বড় প্রকল্পের সুবিধা নাগরিকদের কাছে পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে।
বড় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে রাবিউল আলম জানান, ক্যাবিনেট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু প্রকল্পের ব্যয় অত্যন্ত বেশি, তবে সেগুলোর বাস্তবিক উপকারজনকতা সীমিত। তাই এই প্রকল্পগুলো চালু থাকবে কিনা, তা পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মন্ত্রীর মতে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদে জবাবদিহিতার কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে; পূর্বে সরকার প্রধানত বিরোধী দলের তত্ত্বাবধানে ছিল, আর এখন ruling party‑এর সদস্যরাও সরকারের নীতি‑নির্ধারণে ভোট দিতে পারবেন।
এ ধরনের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে যে কোনো সিদ্ধান্ত একতরফা না হয়ে, বিস্তৃত মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত হবে। রাবিউল আলমের মতে, ruling party‑এর সদস্যদের যদি কোনো পদক্ষেপ অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, তারা তা বিরোধিতা করতে পারবে, ফলে একতরফা সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাব কমে যাবে।
এই প্রক্রিয়া ministries‑কে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এবং জনগণের জন্য ন্যায়সঙ্গত শাসন নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। মন্ত্রীর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার এখনো দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে অটল এবং ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্তরে তদারকি বাড়াবে।
দুর্নীতি‑বিরোধী নীতি ও প্রকল্প পর্যালোচনার এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। রাবিউল আলমের এই ঘোষণার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা বাড়লে সরকারী নীতি‑নির্ধারণে আরও সমতা ও স্বচ্ছতা আসবে।
সারসংক্ষেপে, রোড ট্রান্সপোর্ট ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আজ জিয়া উদ্যানের সমাধিতে প্রার্থনা শেষে সরকারকে দুর্নীতির শূন্য‑সহনশীলতা বজায় রাখতে এবং উচ্চ ব্যয়ের, কম উপকারি প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে।



