কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর রাতেই দেবিদ্বার বাজারে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার সময় চাঁদা সংগ্রাহককে গুঁটি বাঁধা ও সরাসরি পুলিশে জানাতে নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেবিদ্বারে কোনো চাঁদাবাজের কাজের সুযোগ থাকবে না।
সেই সন্ধ্যায় তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্বেগ শোনেন এবং একই সঙ্গে চাঁদা সংগ্রাহক হিসেবে পরিচিত শাহ আলমের কার্যক্রমের ওপর কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। শাহ আলম যদি নির্ধারিত এলাকার বাইরে চাঁদা নিতে আসে, তবে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হবে, এটাই তার মূল বার্তা।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও জোর দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজের কাজকে কোনোভাবে সহায়তা করা বা আশ্রয় প্রদান করা নিষিদ্ধ। এমন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি আইনগতভাবে শাস্তি পেতে চায়, তবে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নীতি অনুসরণে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাজারের একজন ইজারা (ভাড়াটে)কে ফোনে সতর্ক করে তিনি বলেন, চাঁদা সংগ্রহের কাজ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট বাজার এলাকার সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। যদি নির্ধারিত সীমানার বাইরে চাঁদা তোলা হয়, তবে স্থানীয় জনগণ নিজে থেকেই ধরা দিয়ে শারীরিক শাস্তি দিতে পারে, এবং এ ক্ষেত্রে তিনি নিজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি কাঁচাবাজারের ইজারা গ্রহণ করেছেন এবং সেই বাজারের ভিতরে চাঁদা তোলার কাজ সীমাবদ্ধ থাকবে। বাজারের সীমানার বাইরে কোনো চাঁদা সংগ্রহের প্রচেষ্টা হলে তা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আওতায় পড়বে।
হাসনাত আবদুল্লাহের এই সতর্কতা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। তারা জানান, চাঁদাবাজের অনিয়মিত কার্যকলাপের ফলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং এখন আইনগত কাঠামো স্পষ্ট হওয়ায় তারা নিরাপদ বোধ করছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি কার্যকর করতে স্থানীয় পুলিশ ইউনিটের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলেন, চাঁদা সংগ্রাহক যদি নির্ধারিত সীমানার বাইরে কাজ চালিয়ে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী গ্রেফতার, জমানত এবং আদালতে মামলা চালানোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এছাড়া চাঁদাবাজকে আশ্রয় দানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহ-অপরাধী হিসেবে গণ্য করে একই রকম শাস্তি দেওয়া হবে।
অবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, দেবিদ্বার এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তিনি এবং স্থানীয় প্রশাসন একসাথে কাজ করবেন। কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং ভবিষ্যতে চাঁদাবাজের কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার লক্ষ্য থাকবে। এই প্রতিশ্রুতি স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



