29 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও ভঙ্গুরতা সম্পর্কে মন্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও ভঙ্গুরতা সম্পর্কে মন্তব্য

ড. আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সরকারী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীলতার পথে অগ্রসর হলেও ভঙ্গুরতা সম্পূর্ণ দূর হয়নি।

গভর্নর জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক খাতে যে অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণভাবে সেরে তুলতে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় কাঠামোগত সংস্কার, তদারকি শক্তিশালীকরণ এবং শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে তিনি নবগঠিত সরকারকে কার্যকর ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। বিশেষ করে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর নীতি সহজীকরণ এবং ব্যবসায়িক অনুমোদন প্রক্রিয়ার দ্রুততা বৃদ্ধিকে তিনি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার ৭ শতাংশের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে, তবে এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হয়নি। ড. আহসান এইচ মনসুরের মতে, বাজারের স্বাভাবিকীকরণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা স্থিতিশীল করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।

বাজারে সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, মুদ্রা নীতি সমন্বয় এবং তেলদামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণকে তিনি মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের জন্য আর্থিক নীতি ও মুদ্রা নীতি সমন্বয় অপরিহার্য।

গভর্নর উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো নতুন নির্বাচিত সরকার দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ও জনকল্যাণের দৃষ্টিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ক্ষেত্রে ড. আহসান এইচ মনসুর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই মাইলফলকটি দেশের মুদ্রা স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং খেলাপি ঋণ আদায়কে নতুন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। ড. আহসান এইচ মনসুরের মতে, নন-পারফরমিং লোনের পরিমাণ কমাতে কঠোর তদারকি, পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং ঋণগ্রহীতাদের সক্ষমতা মূল্যায়ন জরুরি।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। উভয় সংস্থার নীতি সমন্বয় এবং বাস্তবায়ন দ্রুত হলে আর্থিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।

আজ বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে রিজার্ভ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং ব্যাংক সংস্কার বিষয়গুলো আলোচনার মূল এজেন্ডা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বৈঠকের ফলাফল পরবর্তী নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

ড. আহসান এইচ মনসুরের শেষ মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সঠিক নীতি নির্ধারণ এবং শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হ্রাস পাবে। তিনি আশাবাদী যে, নতুন সরকারের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের অর্থনৈতিক দিগন্তকে সুদৃঢ় করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments