বিনোদন জগতের বিশিষ্ট লেখক সালিম খান মঙ্গলবার সকালেই পরিবারিক চিকিৎসকের মাধ্যমে লিলাভতী হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা হয়।
বুধবার বিকালে হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসক জানিয়ে বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি একই দিনে নিউরোসার্জনের তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল সাবস্ট্রাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি (ডিএসএ) প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের রক্তনালীর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের জন্য করা হয় এবং কোনো বড় শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হয়নি।
ডাক্তার উল্লেখ করেন, রোগীকে প্রথমে ক্যাসুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়, সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধ প্রদান করা হয়। রক্তচাপের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং রোগীকে তৎক্ষণাৎ আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, তবে এটি শুধুমাত্র প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং রোগের তীব্রতা নির্দেশ করে না।
প্রক্রিয়ার পর ডাক্তার জানান, “ডিএসএ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, রোগী এখন স্থিতিশীল এবং আইসিইউতে রয়েছে। আগামীকাল পর্যন্ত ভেন্টিলেটর থেকে মুক্তি পেতে পারেন। বয়সের প্রভাব বিবেচনা করে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি।” তিনি আরও বলেন, রোগীর অবস্থা সামগ্রিকভাবে ভাল এবং শীঘ্রই স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসা সম্ভব।
ডাক্তার হিন্দিতে যোগ করে বলেন, “তিনি সম্পূর্ণ সচেতন এবং স্বাভাবিক দেখাচ্ছিলেন। মস্তিষ্কে সামান্য রক্তস্রাব হয়েছে, যা আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। কোনো শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন নেই।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে মস্তিষ্কে ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণ ঘটলেও তা তাত্ক্ষণিক শল্যচিকিৎসা ছাড়া নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
হাসপাতালের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে সালিম খান আইসিইউতে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং চিকিৎসা দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। রোগীর অবস্থা উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা থেকে মুক্ত করা হবে এবং শীঘ্রই পরিবারকে জানানো হবে।
এই ঘটনার পর মিডিয়া ও ভক্তদের কাছ থেকে সমর্থনের তরঙ্গ দেখা যায়, তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য বা গুজবের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বর্তমান পর্যন্ত রোগীর স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল এবং চিকিৎসা দল সর্বোচ্চ যত্নে কাজ করছে।



