29 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাবাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক পদে কবিরুল বাশারের প্রস্তাব

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক পদে কবিরুল বাশারের প্রস্তাব

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন জাতীয় নির্বাচক কবিরুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক পদে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমান প্রধান নির্বাচক গাজি আশরাফ হোসেন লিপু ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া চুক্তি নবায়ন করতে অনিচ্ছুক বলে জানা গেছে। এই পরিবর্তনের পটভূমিতে বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি রয়েছে।

কবিরুল বাশারকে এই পদে নিয়োগের প্রস্তাবটি বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ফল, যা তার পূর্ববর্তী নির্বাচক অভিজ্ঞতা এবং গেম ডেভেলপমেন্টে নেতৃত্বের ভিত্তিতে করা হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, বাশারকে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করার জন্য কয়েক সপ্তাহের সময় চাওয়া হয়েছে, যাতে তিনি নিজের পেশাগত দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করতে পারেন।

অন্যদিকে, গাজি আশরাফ হোসেন লিপু তার বর্তমান চুক্তি শেষের দিকে পৌঁছাচ্ছিলেন এবং দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। লিপু উল্লেখ করেন যে বোর্ড সাধারণত দুই বছরের মেয়াদে নির্বাচক নিয়োগ করে, যা পরবর্তী টি২০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি জানান, তিনি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে বাধ্য হতে পারছেন না এবং তাই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রধান নির্বাচকের মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য হল দলকে ধারাবাহিকভাবে গঠন ও উন্নয়নের সুযোগ প্রদান করা। আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বিবেচনা করে, বোর্ড দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্ব দেয়। এই প্রেক্ষাপটে লিপুর চুক্তি নবায়ন না হওয়া বোর্ডকে নতুন মুখের সন্ধানে ত্বরান্বিত করেছে।

কবিরুল বাশার প্রস্তাবটি গ্রহণের আগে কিছু সময় চেয়েছেন, যাতে তিনি নিজের বর্তমান দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথাযথ সময় প্রয়োজন, যাতে দল ও বোর্ডের স্বার্থে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এই সময়সীমা বোর্ডকে পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করবে।

বাশার পূর্বে ২০২৪ সালের আগে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে তিনি মিনহাজুল আবেদিনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতেন। তাদের যুগে দলকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং নতুন খেলোয়াড়দের উন্মোচন করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে একটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, বাশার এবং মিনহাজুলকে পরিবর্তন করে গাজি আশরাফ হোসেন লিপু ও হান্নান সরকারকে নতুন নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

এই পুনর্গঠনটি দলকে আধুনিক কৌশল ও বিশ্লেষণমূলক পদ্ধতিতে পরিচালনা করার লক্ষ্যে করা হয়েছিল। লিপু ও হান্নান সরকারকে নিয়োগের পর থেকে দলটি নতুন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নতি করার চেষ্টা করেছে। তবে লিপুর চুক্তি শেষের দিকে এসে এখন আবার নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যা বাশারের প্রস্তাবের পেছনে মূল কারণ।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের পরবর্তী ধাপটি হবে কবিরুল বাশারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা, যা বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী শীঘ্রই জানানো হবে। যদি বাশার এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে তিনি আবারও নির্বাচক প্যানেলে ফিরে এসে দলকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে গঠন করতে পারবেন। অন্যথায়, বোর্ডকে বিকল্প প্রার্থীর সন্ধান চালিয়ে যেতে হবে এবং নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এই সময়ে দল ও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য কৌশল নির্ধারণে গুরুত্ব আরোপ করা হবে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক পদে কবিরুল বাশারের প্রস্তাব এবং গাজি আশরাফ হোসেন লিপুর চুক্তি শেষের দিকে অগ্রসর হওয়া দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উভয়ই দলকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং বাশারের সম্ভাব্য গ্রহণযোগ্যতা দলীয় গঠন ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফরম্যান্সের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments