প্রিন্স উইলিয়াম রেডিও ১-এর “লাইফ হ্যাকস” বিশেষ পর্বে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে পুরুষদের জন্য মানসিক সমস্যার কথা প্রকাশ করা এখনও যথেষ্ট প্রচলিত নয়, তাই আরও বেশি পুরুষ রোল মডেলকে এই বিষয়টি উন্মুক্তভাবে আলোচনা করতে হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।
পর্বটি গ্রেগ জেমসের সঙ্গে একটি প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে পুরুষ আত্মহত্যা সমস্যার গভীরতা ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। উভয় অংশগ্রহণকারী এই বিষয়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এবং জনসাধারণের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল প্রস্তাব করেছেন।
প্রিন্স উইলিয়াম নিজেও স্বীকার করেছেন যে তিনি নিজের অনুভূতি বুঝতে সময় নেন। তিনি বলেন, নিজের আবেগের মূল কারণ বিশ্লেষণ করা এবং নিয়মিত আত্মপর্যালোচনা করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। কখনো কখনো স্পষ্ট কারণ থাকে, আবার কখনো না, তবে এই প্রক্রিয়া নিজেকে জানার প্রথম ধাপ।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে মানসিক সংকটের সময়কাল সাধারণত অস্থায়ী। তীব্র মানসিক চাপের মুহূর্তে মানুষকে আশাবাদী থাকতে উৎসাহিত করা হয়, কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অবস্থা স্বাভাবিকভাবে সরে যায়।
প্রিন্সের পরামর্শের মধ্যে রয়েছে নিজের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মসম্মান গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিজের অনুভূতি স্বীকার করা এবং তা নিয়ে চিন্তা করা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক।
আবেগ প্রকাশের গুরুত্বের ওপর তিনি আলোকপাত করেন, বলেন যে মানসিক স্বাস্থ্যের কথা স্বাচ্ছন্দ্যে বলতে পারলে সমস্যার মূল কারণ দ্রুত চিহ্নিত করা যায়। তাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করা এবং অন্যদের শোনার মাধ্যমে সমর্থন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি।
প্রিন্স উইলিয়াম পুরুষ রোল মডেলদেরকে সক্রিয়ভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি তুলে ধরতে আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, যদি বেশি পুরুষ এই বিষয়টি উন্মুক্তভাবে আলোচনা করেন, তবে তা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এবং সমাজের প্রত্যেকের জন্য সহজ হবে।
রয়্যাল ফাউন্ডেশন এই উদ্যোগকে সমর্থন করে ১ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়ন করে ন্যাশনাল স্যুয়াইড প্রিভেনশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধে জাতীয় স্তরে তথ্য সংগ্রহ, হটলাইন সেবা এবং সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
প্রিন্স উল্লেখ করেন, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলোর সমর্থন ছোট একটি সোপান হতে পারে, যা কঠিন সময়ে মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই ধরনের সহায়তা ব্যক্তিগতভাবে সমস্যার মোকাবিলা করা সহজ করে।
যদি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে বেশি আলোচনা করে এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়, তবে আত্মহত্যার প্রবণতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মানুষ সকালে উঠে ভিন্ন অনুভূতি পেতে পারে, যা ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচক।
এই আলোচনার পর, যারা মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের জন্য স্থানীয় হেল্পলাইন এবং পরামর্শদাতা সেবার তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। প্রিন্স উইলিয়াম সকলকে আহ্বান জানান, প্রয়োজনে পেশাদার সাহায্য নিতে দ্বিধা না করে এগিয়ে আসতে।
মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে, নিজের অনুভূতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মনের অবস্থা নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখুন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পেশাদার সাহায্য নিন।



