29 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি জানান

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি জানান

নবনিযুক্ত তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সরকারী সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা করেন, দেশজুড়ে ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, মিথ্যা তথ্য ও গুজবের বিস্তারকে মোকাবেলা করা বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ, এবং এ সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি ও নীতি দুটোই সমানভাবে কাজ করবে।

সচিবালয়ের প্রধান হলঘরে স্বপন শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর সেশনে অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি মিডিয়ার স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, এবং উল্লেখ করেন যে সরকার ইতিমধ্যে এই দিকনির্দেশে প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

মিথ্যা তথ্যের দ্রুত বিস্তারকে আন্তর্জাতিক স্তরে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করে স্বপন বলেন, আজকের ডিজিটাল যুগে গুজবের গতি অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের তথ্যের প্রভাব রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি, নইলে জনমত গঠনে বিকৃতির ঝুঁকি বাড়বে।

প্রযুক্তির দ্বিমুখী প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিকে ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তথ্যের প্রবেশাধিকার সহজ হয়েছে, অন্যদিকে একই প্ল্যাটফর্মে ভ্রান্তি ও হিংসাত্মক কন্টেন্টের বিস্তার ঘটছে। স্বপন উল্লেখ করেন, এই সমস্যার সমাধানও প্রযুক্তিগত উপায়ে করা সম্ভব, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ফিল্টার ও দ্রুত সনাক্তকরণ ব্যবস্থা।

গণমাধ্যমের মৌলিক দায়িত্বকে তিনি “সত্যনিষ্ঠ ও নির্ভেজাল তথ্য সরবরাহ” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন। বর্তমান আইন ও বিধিমালার সীমার মধ্যে থেকে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সমন্বয় ও কার্যকরী পদক্ষেপের কথা তিনি তুলে ধরেন। বিশেষ করে সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং দায়িত্বশীল রিপোর্টিংকে উৎসাহিত করা হবে।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়কে উদাহরণ দিয়ে স্বপন বলেন, তিনি একসময় নির্যাতনের শিকার ছিলেন, তাই ভয়ের মধ্যে কাজ করা মানুষের মানসিক কষ্টকে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের উপর ক্রমাগত নজরদারির চাপকে তিনি সমস্যার মূল হিসেবে চিহ্নিত করেন, এবং এ ধরনের পরিবেশে স্বাধীন রিপোর্টিং সম্ভব না হলে গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে।

অতীতে বিরোধী দলগুলো সরকারকে মিডিয়া স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগ তুলেছে; এই প্রেক্ষাপটে স্বপনের ঘোষণাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, যদি সরকার সত্যিকারের ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য কাঠামোগত সংস্কার চালু করে, তবে তা মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্নির্মাণে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিস্তৃত পরিকল্পনার মধ্যে গণমাধ্যম সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, স্বপন তা উল্লেখ করে ইনশাআল্লাহ, এই নীতির আলোকে দেশে নিরাপদ ও স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। তিনি ভবিষ্যতে আইনগত কাঠামো পুনর্বিবেচনা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে মিথ্যা তথ্যের দ্রুত সনাক্তকরণে বিশেষ টিম গঠন, মিডিয়া সংস্থাগুলোর জন্য স্বচ্ছতা মানদণ্ড নির্ধারণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে গুজবের বিস্তার রোধ করা। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে হবে, এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে নীতি চূড়ান্ত করা হবে বলে স্বপন জানান।

এই ঘোষণার পর থেকে মিডিয়া সংস্থাগুলো সরকারী দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে, এবং আশা করা হচ্ছে যে ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠা নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করবে। শেষ পর্যন্ত, স্বপন উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করা দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের ভিত্তি।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments