29 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া গণভোটের ফলাফলকে উপেক্ষা করেছে

বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া গণভোটের ফলাফলকে উপেক্ষা করেছে

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকার করা বিএনপি, জুলাই ২০২৫ সালের সংবিধান সংস্কার আদেশের গণভোটের ফলাফলকে অবহেলা করেছে। গণভোটে দুই‑তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে আদেশকে অনুমোদন করেন, আর শপথ গ্রহণের ফরমও একই আদেশে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিএনপি পার্টির সংসদ সদস্যরা পরিষদের সদস্যপদ গ্রহণের শপথ না নেওয়ায় সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষই এই পদক্ষেপকে গণভোটের বৈধতা লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। শপথের অনুপস্থিতি মানে পরিষদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বাধা, যা সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপ হিসেবে নির্ধারিত ছিল।

গণভোটের প্রশ্নাবলীর মধ্যে সংবিধান সংস্কার আদেশের বাস্তবায়ন, পরিষদ গঠন এবং শপথ গ্রহণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা আদেশকে জনগণের সম্মতিপ্রাপ্ত করে তুলেছে, ফলে শপথের বিষয়টিও ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত বলে গণ্য হয়। তাই শপথ না নেওয়া সরাসরি ভোটের ফলাফলকে অগ্রাহ্য করার সমতুল্য।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। তিনি পার্টির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইত্যাদি বিষয়েও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেন। এই প্রেক্ষাপটে শপথ না নেওয়া পার্টির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিএনপি যদি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিত, তবে নির্বাচনে পার্টির ফলাফল ভিন্ন হতে পারত। তবে শপথ না নেওয়ার ফলে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ফলাফল কার্যকর হয়নি, ফলে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এখন প্রথম ধাপের আদেশে আটকে আছে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ও আইনগত পরিবেশে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে শপথ না নেওয়া সংবিধান সংস্কার আদেশের কার্যকরীতা ক্ষুণ্ন করে। আদেশে শপথ গ্রহণের ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকায়, শপথ না নেওয়া পার্টি ও তার সদস্যদের আদেশের অধীনস্থ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে সরকার দাবি করে।

বিপক্ষের মতে, বিএনপি জনমতের প্রতি অবহেলা করছে এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতাকে ব্যাহত করছে। শপথ না নেওয়া ভোটের ফলাফলকে অস্বীকারের সমতুল্য, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে।

এই বিরোধের ফলে সংবিধান সংস্কার আদেশের পরবর্তী ধাপ—সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও কার্যক্রম—বিলম্বিত হয়েছে। পরিষদের সদস্যদের শপথ না নেওয়া মানে পরিষদ গঠনই সম্ভব নয়, ফলে আইনগত পরিবর্তনের বাস্তবায়ন থেমে গেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি পার্টি শপথ গ্রহণের শর্ত মেনে নিত, তবে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর হতে পারত। শপথ না নেওয়া কেবল পার্টির রাজনৈতিক অবস্থানকে নয়, দেশের সংবিধানিক সংস্কারের সময়সূচিকেও প্রভাবিত করেছে।

অধিকন্তু, শপথ না নেওয়া পার্টির নির্বাচনী সাফল্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নির্বাচনে পার্টি যে ভোট পেয়েছে, তা কি শপথ না নেওয়ার পরেও বজায় থাকবে, তা এখন অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে পার্টি যদি শপথ গ্রহণ না করে, তবে আইনগতভাবে তাদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ হতে পারে।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরকার সংবিধান সংস্কার আদেশের কার্যকরীতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, বিরোধী দল শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে গণভোটের ফলাফলকে সম্মান করা যায়।

সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ—আদেশ জারি, দ্বিতীয় ধাপ—গণভোট, তৃতীয় ধাপ—পরিষদ গঠন—এখন তৃতীয় ধাপের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত। এই পরিস্থিতি দেশের সংবিধানিক সংস্কারের সময়সূচি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে, যা পরবর্তী সপ্তাহে উভয় পক্ষের আলোচনার বিষয় হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments