ইমরান খান, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক, কারাগারে দুই বছর অর্ধেকের বেশি সময় কাটিয়ে আসার পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে প্রতিবাদ চলছে, আর বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের কিংবদন্তিরা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা না পেলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রকাশ পেয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেটের পুরনো দিগন্তে একধরনের শোকের সুর বাজে।
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী, সুনীল গাভাস্কার এবং কাপিল দেবসহ বহু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা একত্রে বলেছেন যে, খানের স্বাস্থ্যের উন্নতি নিশ্চিত করা এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা আন্তর্জাতিক মানবিক দায়িত্বের অংশ।
গাঙ্গুলী মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় উল্লেখ করেছেন, তিনি আশা করেন যে ইমরান খান দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পাবে এবং তার স্বাস্থ্যের অবস্থা উন্নত হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেছেন, খানের অধিনায়কত্বের সময় পাকিস্তানকে বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা তার অবদানকে সম্মানিত করা উচিত।
গাভাস্কার ও কাপিল দেবও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করে ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাবাসের পরিবেশের উন্নতির জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন দাবি করেছেন। তাদের মতে, একজন ক্রীড়া নায়কের মানবিক অধিকার রক্ষা করা কেবল ক্রীড়া জগতের নয়, বরং সমগ্র মানবতার দায়িত্ব।
ক্রিকবাজ নামে একটি ক্রিকেট সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকারের কাছে ১৬ জন প্রাক্তন অধিনায়কের যৌথ আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এই আবেদনটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে খানের জন্য পর্যাপ্ত ও ধারাবাহিক চিকিৎসা, মর্যাদাপূর্ণ কারাবাসের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের নিশ্চয়তা চায়।
আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছে গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বোর্ডার, মাইকেল ব্রেয়ারলে, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্দা ক্লার্ক, ডেভিস গোয়ার, কিম হিউজেস, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয়াহ এবং জন রাইট। এই সব নামই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং তাদের সমষ্টিগত আহ্বান ইমরান খানের মানবিক অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে।
আবেদনের মূল দাবি হল, ইমরান খানকে তার পছন্দের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে অবিলম্বে এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রদান করা, পাশাপাশি কারাবাসের সময় তার দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের কারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি গৌরবময় কারাবাসের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ চাওয়া হয়েছে।
প্রকাশকরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই আবেদনটি কোনো আইনি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা নয়, বরং ক্রীড়া নীতি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে করা একটি নৈতিক আহ্বান। তারা উল্লেখ করেছেন, একাধিক দেশের প্রাক্তন অধিনায়কের সমন্বয়ে গঠিত এই আবেদনটি কেবল ক্রীড়া জগতের নয়, সমগ্র মানবতার ন্যায়বিচার রক্ষার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
ইমরান খান ২০১৮ সালে দেরি পর্যন্ত রাজনৈতিক বিরোধের কারণে গ্রেফতার হন এবং এরপর থেকে দুই বছর অর্ধেকের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। অধিনায়কত্বের সময় তিনি পাকিস্তানকে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা এনে দিয়েছিলেন, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক স্মরণীয় মুহূর্ত। পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বর্তমানে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে ইমরান খানের চিকিৎসা ও মানবিক অধিকার রক্ষার জন্য প্রতিবাদ চলমান। সমর্থকরা সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছেন যে, খানের স্বাস্থ্যের অবস্থা দ্রুত উন্নত করা হোক এবং তাকে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হোক। এই প্রতিবাদে ক্রীড়া প্রেমিক ও রাজনৈতিক সমর্থক উভয়ই অংশগ্রহণ করছেন, যা ইমরান খানের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক জীবনের দ্বৈত গুরুত্বকে প্রকাশ করে।
সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ১৬ প্রাক্তন অধিনায়কের যৌথ আবেদন ইমরান খানের মানবিক অধিকার রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী আহ্বান হিসেবে উঠে এসেছে। তাদের দাবি কেবল চিকিৎসা নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ কারাবাসের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের নিশ্চয়তা। এই উদ্যোগটি ক্রীড়া জগতের নৈতিক দায়িত্বকে তুলে ধরে এবং পাকিস্তানের সরকারকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে।



