বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারে নতুন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বুধবার প্রথম কাজের দিন সেক্রেটারিয়েটে উপস্থিত হন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানালেন, সরকারের ওপর মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ, এবং তা অর্জনের জন্য সরকার অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করবে।
মন্ত্রীর প্রথম দিনেই তিনি বিভিন্ন মিডিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকারের অগ্রাধিকার ও নীতি দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। প্রশ্নের ধারাবাহিকতায় তিনি জোর দিয়ে বললেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কোনো সঙ্কোচ নেই এবং প্রতিটি পদক্ষেপে দায়িত্বশীলতা বজায় থাকবে।
আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন, জনগণের পাহাড়সম প্রত্যাশা শুধু একক খাতের নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক কল্যাণসহ বহু ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি যোগ করেন, এই প্রত্যাশা পূরণে সরকার ধারাবাহিকভাবে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে মনোযোগ দেবে।
একই সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে ৩৪ মিনিটের ভাষণ দেবেন। এই ভাষণে সরকারী কর্মসূচি, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর, বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শপথ গ্রহণ করে। শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার শপথ গ্রহণের পরই তিনি সরকারী দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন।
বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের এই বিশাল জয়োৎসবের পর, নতুন মন্ত্রিসভা দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সামাজিক সমতা ও আইনগত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মন্ত্রিসভা দেশের উন্নয়নমূলক লক্ষ্য অর্জনে ত্বরান্বিত ভূমিকা রাখবে।
অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান বিরোধী দলগুলোও সরকারকে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। যদিও তারা কিছু নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে সরকারী পক্ষ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রত্যাশা পূরণে কোনো ধাপ বাদ না দিয়ে কাজ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভাষণে সরকারী কর্মসূচির বিশদ পরিকল্পনা, বাজেট বরাদ্দ ও সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কিভাবে হবে তা তুলে ধরা হবে। এই ভাষণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন, আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা, বিচারিক স্বতন্ত্রতা রক্ষা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা এই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস জয় করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের পরপরই সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নীতি বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দ্রুত ফলাফল আনার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, নতুন আইনমন্ত্রী মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণকে সরকারের সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং সরকারী কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীঘ্রই দেওয়া ভাষণ এই দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট করবে, যা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



