29 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅস্ট্রেলিয়া দুই বছর পর্যন্ত আইএস ক্যাম্পের নাগরিককে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

অস্ট্রেলিয়া দুই বছর পর্যন্ত আইএস ক্যাম্পের নাগরিককে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

অস্ট্রেলিয়া সরকার নিরাপত্তা সংস্থার পরামর্শে আইএস (ইসলামিক স্টেট) ক্যাম্পে থাকা এক নাগরিককে দেশে প্রবেশে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বুধবার হোম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী টনি বার্কের ঘোষণার মাধ্যমে জানানো হয়। নিষেধাজ্ঞা আরোপের মূল কারণ নিরাপত্তা ঝুঁকি, যদিও একই গ্রুপের অন্য ৩৩ জনের জন্য একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই ব্যক্তি ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ান নারী ও শিশুর গ্রুপের অংশ, যারা সাম্প্রতিক সপ্তাহে সিরিয়ার আল-রোজ ক্যাম্প থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেছিল। তবে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ ‘প্রযুক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাবর্তন প্রত্যাখ্যান করে। গ্রুপের মধ্যে ২৩ জন শিশু রয়েছে, এবং বেশিরভাগই আইএস যোদ্ধাদের স্ত্রী, বিধবা বা সন্তান।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে নিরাপত্তা সংস্থার সুপারিশের উল্লেখ করা হয়েছে, এবং মন্ত্রী বার্ক উল্লেখ করেন যে বাকি ৩৩ জনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি মানদণ্ড পূরণ হয়নি। ফলে, অস্ট্রেলিয়া সরকার এই গ্রুপের অধিকাংশকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা না করে। ক্যাম্পে থাকা এই পরিবারগুলোর জন্য সরকারী সহায়তা প্রদান করা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজে এই নীতির পক্ষে জোর দিয়ে বলেন, যারা বিদেশে গিয়ে উগ্র মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তারা স্বয়ং তাদের কাজের ফল ভোগ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার কোনো আর্থিক বা সামাজিক সহায়তা প্রদান করবে না এবং এই পরিবারগুলোকে স্বয়ং তাদের গৃহে ফিরে আসতে হবে।

আইনি বিশ্লেষকরা সরকারকে নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্বে উল্লেখ করেন, তবে আলবানিজে জোর দিয়ে বলেন যে সরকার অস্ট্রেলিয়ার আইন লঙ্ঘন করবে না। তিনি যুক্তি দেন, গ্রুপের অধিকাংশের পাসপোর্ট বৈধ হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আল-রোজ ক্যাম্প, যা সিরিয়ার উত্তরে অবস্থিত, ২০১৯ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের জন্য এক ধরণের শিবির হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বছর আইএসের শেষ ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর থেকে শত শত অস্ট্রেলিয়ান এই ক্যাম্পে বা সংশ্লিষ্ট কারাগারে আটক হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পে ৪০টি ভিন্ন দেশের ২,০০০ এর বেশি নারী ও শিশুরা বসবাস করছে।

বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোও এই সিদ্ধান্তের নিরাপত্তা ও মানবিক দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। লিবারেল পার্টির সেনেটর জোনো ডুনিয়াম প্রশ্ন তোলেন, কেন এই গ্রুপের কেবল একজনকে ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর বাকি সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তিনি আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে আরও বেশি সদস্যকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার আহ্বান জানান।

ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের শামিমা বেগুমের নাম উল্লেখ করা হয়, যাকে ২০১৯ সালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার মতোই, অস্ট্রেলিয়ার এই নাগরিকদেরও আন্তর্জাতিক নজরদারির মুখে থাকতে হবে।

ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া সরকার কীভাবে এই গ্রুপের প্রত্যাবর্তন পরিচালনা করবে, তা এখনও অনিশ্চিত। নিরাপত্তা সংস্থার পরামর্শ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে সমন্বয় করে সরকারকে আইনি ও নৈতিক দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলে নতুন আলোচনার দরজা খুলে যাবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments