29 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনোয়াখালীর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তালা ভেঙে স্লোগান দিলেন

নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তালা ভেঙে স্লোগান দিলেন

নোয়াখালী জেলার টাউন হল মোড়ে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, যা প্রায় সতেরো মাস ধরে তালাবদ্ধ ছিল, আজ সকাল সাতটায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ জন নেতা ও কর্মী তালা ভেঙে প্রবেশ করে। এই দলটি ভোরবেলায় গোপনভাবে লকটি খুলে, অফিসের ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে “জয় বাংলা”সহ বিভিন্ন স্লোগান গাইতে থাকে।

প্রবেশের পর তারা কার্যালয়ের সামনে একটি বড় ব্যানার টাঙিয়ে সটকে পড়ে, যেখানে “আওয়ামী লীগ” ও “ছাত্রলীগ” শব্দগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ব্যানারটি স্থানীয় মিডিয়ার নজরে আসে এবং দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

কার্যালয়ের দরজা খুলে যাওয়ার খবর পেয়ে নোয়াখালী থানার একটি দল现场ে পৌঁছায়। পুলিশ উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের পরিচয় যাচাই করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদেরও অনুসন্ধান চালু রয়েছে।

সুধারাম থানার ওসির মতে, ভোরবেলায় ছাত্রলীগের সদস্যরা গোপনভাবে লকটি ফাঁকা করে, স্লোগান প্রদান করে এবং ব্যানার টাঙিয়ে সটকে পড়ে। এরপর পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং পাঁচজনকে আটক করে। তিনি জানান, অবশিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ব্যাপক অভিযান চালু রয়েছে।

এই ঘটনা ৩ আগস্ট ২০২৪-এ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গুলি চালানো ও ভাঙচুরের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই সময়ে কিছু কর্মী ও ছাত্র-জনতা কার্যালয়ে আগুন জ্বালিয়ে ক্ষতি করে, যা পরে পুনর্নির্মাণের কাজের সূচনা করে।

৫ আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই কার্যালয়ের প্রধান দরজায় তালা ঝোলানো হয়, এবং আজকের ঘটনার মাধ্যমে সেই তালা শেষমেশ ভাঙা হয়। তালা ভাঙার পর অফিসের অভ্যন্তরে কিছু নথি ও সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কোনো বড় সম্পদ হারিয়ে যায়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ছাত্রলীগের এই ধরনের সরাসরি কর্মসূচি পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সংগঠনের দুর্বলতা প্রকাশ করে। তারা বলেন, এই ধরনের প্রকাশভঙ্গি পার্টির শাসনকালের নীতিমালা ও সংগঠন কাঠামোর পুনঃপর্যালোচনার ইঙ্গিত হতে পারে।

পুলিশের মতে, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ গৃহীত হয়েছে এবং শীঘ্রই আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে তালা ভাঙা, অবৈধ সমাবেশ এবং স্লোগান প্রদানসহ বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করা হবে।

অবশিষ্ট সন্দেহভাজনদের ধরার জন্য নোয়াখালী থানা বিশেষ অভিযান চালু করেছে। এই অভিযানে তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষী সনাক্তকরণ এবং সম্ভাব্য সহায়তাকারী ব্যক্তিদের অনুসন্ধান অন্তর্ভুক্ত। পুলিশ জানায়, তদন্ত চলাকালীন অতিরিক্ত গ্রেপ্তারও হতে পারে।

এই ঘটনার পর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। তারা অফিসের চারপাশে অতিরিক্ত গার্ডি স্থাপন, লক সিস্টেম আপডেট এবং ভবিষ্যতে অনধিকার প্রবেশ রোধে কঠোর নিয়ম প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অনুমান করছেন, ছাত্রলীগের এই পদক্ষেপ পার্টির শাসনকালের নীতিমালা ও সংগঠন কাঠামোর পুনঃপর্যালোচনার সংকেত হতে পারে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির সময় পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য নতুন কৌশল গড়ে তুলতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটির ব্যাপক আলোচনার পর, স্থানীয় জনগণও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিছু বাসিন্দা নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে কিছু তরুণ ছাত্র সংগঠনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

সার্বিকভাবে, নোয়াখালীতে তালা ভাঙা এবং স্লোগান প্রদানের এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নীতির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments