জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শপথ গ্রহণের পরের দিন ব্যক্তিগত ও সরকারি কাজের জন্য সিঙ্গাপুরের পথে রওনা হলেন। বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল প্রায় সাড়ে আটটায় তার যাত্রা শুরু হয়, যখন বিমানটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের দিকে ছেড়ে দেয়।
তাহেরের সঙ্গে তার স্ত্রী, প্রফেসর ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী সুইটি, যাত্রা করেন। উভয়ের সঙ্গী হিসেবে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত-এ-ইসলামি সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। উভয়েই সরকারী ও পারিবারিক দায়িত্বের সমন্বয়ে এই সফরে অংশ নেন।
যাত্রার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় করা। এই ধরনের বৈঠকগুলোকে রাজনৈতিক সংযোগ শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডা. তাহের সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, তিনি দেশের বাইরে থাকা সমর্থক ও সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ নীতি ও কৌশল নির্ধারণের পরিকল্পনা করছেন। এদিকে তিনি সকলের দোয়া ও শুভেচ্ছা কামনা করেছেন, যাতে সফরটি সফল হয়।
সিঙ্গাপুরে তার ভ্রমণ ২৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। ফিরে এসে তিনি সংসদে তার দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন এবং জামায়াত-এ-ইসলামি দলের কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবেন।
ডা. তাহেরের রাজনৈতিক যাত্রা ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসন থেকে বিশাল ভোটে জয়লাভের সঙ্গে শুরু হয়। তিনি জামায়াত-এ-ইসলামি কেন্দ্রীয় নায়েবের আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই নির্বাচনী বিজয় তাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী কণ্ঠে পরিণত করেছে। তার নির্বাচনী প্রচারাভিযান ও ভোটাভুটি বিশ্লেষকরা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ডা. তাহের সংসদ সদস্য এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পরপরই তিনি তার নতুন দায়িত্বের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংসদে উপস্থিত হয়ে দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জামায়াত-এ-ইসলামি দলের নীতি ও লক্ষ্যগুলোকে সংসদে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডা. তাহেরের সিঙ্গাপুর সফরকে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সফর তার রাজনৈতিক প্রোফাইলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃশ্যমান করতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জামায়াত-এ-ইসলামি শাখার সক্রিয় সদস্যরা তার সফরকে দলের জন্য কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, বিদেশে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে দলকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
ডা. তাহেরের ফিরে আসার পরের দিন থেকে তিনি সংসদে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন কমিটি ও আলোচনায় অংশ নেবেন। তার উপস্থিতি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াবে এবং নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে।
সামগ্রিকভাবে, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সিঙ্গাপুর ভ্রমণ তার রাজনৈতিক দায়িত্বের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তার ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি আনতে পারে।



