মুম্বাই‑এর প্রখ্যাত অভিনেতা রাজপাল যাদব রাহা ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় বেইল পেয়ে এখন উচ্চ আদালতে চলমান মামলার বিষয়ে বিশদভাবে জানাতে শীঘ্রই একটি প্রেস কনফারেন্সের আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
বেইল পাওয়ার আগে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য জেলখানায় ছিলেন, তবে পরবর্তী শুনানির পর আদালত তাকে মুক্তি দেয়। এই ধারাবাহিকতা তার আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান ও সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
মামলাটির মূল কারণ তার ২০১০ সালের পরিচালনামূলক প্রকল্প “আটা পাতা লাপাতা”-এর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক বিরোধ। সেই সময়ে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ঋণ নেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে চেক বাউন্সের রূপ নেয়।
ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতার মধ্যে বিরোধ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল ঋণের ওপর সুদ ও জরিমানা যুক্ত হয়ে মোট দাবির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে চেক বাউন্সের মামলা দায়ের হয় এবং ৯ কোটি টাকার দাবী আদালতে উঠে আসে।
এই মাসের শুরুর দিকে উচ্চ আদালত মামলার দেরি ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে, যার পর রাজপাল যাদব স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন এবং সাময়িকভাবে জেলখানায় পাঠানো হন। পরবর্তী শুনানিতে বেইল প্রদান করা হয়।
মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন যে সব আইনি বিষয় উচ্চ আদালতে চলছে এবং বিষয়টি সাব জুডিসে হওয়ায় তিনি কোনো মন্তব্য এড়িয়ে চলছেন। তিনি আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রকাশ করে বলেন, শীঘ্রই একটি প্রেস কনফারেন্সে সব প্রশ্নের সৎ উত্তর দেবেন।
মিডিয়া ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বললেন, পুরো দেশ ও বলিউড শিল্পের সহযোগিতা তার জন্য অমূল্য। এই ধন্যবাদসূচক বক্তব্যে তিনি শিল্পের সকল সহকর্মীর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।
আইনি প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি তার আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায়ের সঙ্গে পরামর্শ করছেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য তার নির্দেশনা মেনে চলছেন।
রাজপাল যাদবের ক্যারিয়ার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি মুম্বাই ও বলিউডে ত্রিশ বছরের বেশি সময় কাজ করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি প্রায় দুইশত পঞ্চাশটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং এই দীর্ঘ সময়ে শিল্পের বিভিন্ন ধরণে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
গত দশকে তিনি নিয়মিতভাবে আদালতে উপস্থিত হয়ে সকল আদেশ মেনে চলার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে কোনো আদেশ আসলে তা মেনে চলতে তিনি সর্বদা প্রস্তুত থাকবেন, এ কথায় তিনি তার আইনি দায়িত্বের প্রতি দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন।
যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তবে তিনি ১০০ শতাংশ উপলব্ধ থাকবেন এবং সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবেন, এই প্রতিশ্রুতি তিনি স্পষ্টভাবে জানান।
প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিতর্কের স্পষ্টতা আনতে চান এবং মামলার প্রকৃত পরিস্থিতি জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে ইচ্ছুক।
আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান থাকায়, এই কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলায় নতুন দৃষ্টিকোণ ও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে কীভাবে বিষয়টি সমাধান হবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা বিষয়টি নির্ধারণ করবে।



