চট্টগ্রাম বিভাগের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের নিজামপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতারাতি একটি চোরাচালান ঘটেছে। ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে দু-তিনজন অপরাধী একটি কর্মচারীকে জিম্মি করে, জামাত নেতার আবু হেনা কায়সারের ছাগল খামার থেকে চল্লিশটি ছাগল চুরি করে নিয়ে যায়।
ঘটনা স্থানীয় সময় রাতের অর্ধেকের কাছাকাছি ঘটেছে। অপরাধীরা গাড়ি চালিয়ে খামার এলাকায় পৌঁছে, কর্মচারীকে বেঁধে ধরে রাখে এবং ছাগলগুলোকে গাড়িতে লোড করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকদের মতে, অপরাধীরা হুমকি জানিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কর্মচারীকে বাধ্য করে।
খামার মালিক আবু হেনা কায়সার, হাইতকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় জামাতের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক। তিনি দুই বছর ধরে ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে ছাগল পালন করে আসছেন এবং খামারের দৈনন্দিন কাজের জন্য কয়েকজন কর্মচারী নিয়োগ করে চলেছেন।
কায়সার জানান, গত রাতে কয়েকজন অপরাধী গাড়ি নিয়ে খামার এলাকায় এসে কর্মচারীকে জিম্মি করে, এরপর ৪০টি ছাগল চুরি করে নিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, লুট হওয়া ছাগলগুলোর মোট বাজারমূল্য প্রায় চার লক্ষ টাকার সমান।
ছাগলগুলোর মূল্য সম্পর্কে কায়সার মৌখিকভাবে স্থানীয় নিজামপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রকে জানিয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের চোরাচালান তার জীবিকা এবং স্থানীয় পশুপালন ব্যবসায় বড় ক্ষতি করেছে।
স্থানীয় নিজামপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, কর্মচারীকে বেঁধে ছাগল লুটের বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তকেন্দ্রের দল现场ে গিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগের অপেক্ষা করছে।
পুলিশের মতে, অপরাধীদের সনাক্তকরণ এবং গ্রেফতার করার জন্য তদন্ত চালু রয়েছে। জাকির হোসেন উল্লেখ করেন, যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
আবু হেনা কায়সার, যিনি জামাতের স্থানীয় শাখার শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক, এই ঘটনার ফলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা না হলে কৃষক ও পশুপালকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
এই চোরাচালান ঘটনার পর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং জামাত শাখা উভয়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে গৃহস্থালী নিরাপত্তা ও পুলিশ তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।



