দারুয়া ১৮ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা – নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণের পরপরই, সরকারী সচিবালয়কে তার ও মন্ত্রিপরিষদের স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ফুলের মালা, নামফলক ও পরিষ্কার কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে প্রথম কর্মদিবসে আনুষ্ঠানিক পরিবেশ নিশ্চিত হয়। এই প্রস্তুতির পেছনে নতুন সরকারের প্রথম দিনকে সুষ্ঠু ও গৌরবময় করার ইচ্ছা কাজ করছে।
সচিবালয়ের তৃতীয় তলায় অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অফিসটি শুক্রবার বিকালে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে সাজানো হয়েছে। অফিসের জানালা, ডেস্ক ও চেয়ার সবই ধুয়ে-মুছে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে, যা শাসনের নতুন সূচনা নির্দেশ করে। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অন্যান্য কক্ষেও নামফলক ঝুলিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অফিসের পরিচয় স্পষ্ট করা হয়েছে।
সকাল থেকে সচিবালয়ের প্রবেশদ্বারে ফুলের মালা হাতে কর্মচারী ও অতিথি দেখা যায়, যা নতুন সরকারের স্বাগতসূচক পরিবেশের অংশ। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দলে গঠিত বিশেষ ফোর্সগুলোও সচিবালয়ের ভেতরে অবস্থান করছে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অতিরিক্ত ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব দিক থেকে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে নতুন নামফলক ও সজ্জা করা হয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অফিসে নামফলক ঝুলিয়ে, তাদের পদবী ও দায়িত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে। এই সাজসজ্জা নতুন মন্ত্রিসভার কাজের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম কর্মদিবসে মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকের পরে বিকাল ৪টায় তিনি সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন, যেখানে সরকারী নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভা ও চলমান কার্যক্রমের পর্যালোচনা করা হবে।
নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও একই দিনে তাদের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সচিবালয়ে উপস্থিত হবেন। তারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি সভা করবেন এবং চলমান প্রকল্প ও নীতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই প্রক্রিয়া নতুন সরকারের কর্মশক্তি সমন্বয় ও সমন্বিত কাজের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড ও পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তা দলে গৃহীত বিশেষ পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। নিরাপত্তা দায়িত্বে নিযুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সব ধরণের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের জন্য একটি ব্রিফিংও নির্ধারিত হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যরা মিডিয়ার সামনে সরকারের অগ্রগতি, নীতি দিকনির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা সংক্ষেপে উপস্থাপন করবেন। এই ব্রিফিং নতুন সরকারের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সচিবালয়ের এই ব্যাপক সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি নতুন সূচনা নির্দেশ করে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের প্রথম দিন থেকে কার্যকরী ও সুশৃঙ্খল কাজের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে। সরকারী দপ্তরের এই প্রস্তুতি ভবিষ্যতে নীতি বাস্তবায়ন ও জনসেবা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
প্রথম কর্মদিবসের পরপরই সরকারী দপ্তরে কাজের গতি বাড়বে, এবং নতুন নীতি ও প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারী সচিবালয়ের এই প্রস্তুতি নতুন সরকারের স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ভবিষ্যতে মন্ত্রিপরিষদের কার্যক্রমে সমন্বিত কাজের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।



