চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের গ্লেন ফিলিপস ৩৬ বলের মধ্যে ৭৬ রান তৈরি করে দলকে ৮ উইকেটের পার্থক্যে কানাডার ওপর জয় নিশ্চিত করেন। এই জয় নিউজিল্যান্ডকে সুপার‑ইট টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে স্থান পেতে সাহায্য করেছে।
ফিলিপসের আক্রমণাত্মক সূচনা তৎক্ষণাৎ চোখে পড়ে; প্রথম ওভারে তিনি একটি ছক্কা মারেন এবং পরের কয়েক ওভারে ধারাবাহিকভাবে চার ও ছক্কা মারতে থাকেন। চতুর্থ ওভারে তিনি অর্ধ‑ডজন ছক্কা এবং একটি চারের মাধ্যমে দ্রুত অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা ম্যাচের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মোট ৩৬ বলের মধ্যে তিনি ছয়টি ছক্কা এবং একটি চার দিয়ে ৭৬ রান সংগ্রহ করেন। তার আক্রমণাত্মক শৈলীই না, ফিল্ডিং ক্ষেত্রেও তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নিয়ে দলের সাফল্যে অবদান রাখেন। এছাড়া তিনি এক ওভার দৌড়ান, যদিও কোনো উইকেট নিতে পারেননি, তবে ছয় রানই দিলেন।
ফিলিপসের আক্রমণকে সমর্থন করেন রাচিন রাভিন্দ্রা, যিনি ৫৯ রান তৈরি করেন। রাভিন্দ্রা তিনটি ছক্কা এবং চারটি চারের মাধ্যমে দ্রুত স্কোর বাড়িয়ে দেন, এবং দুজনের মিলিত অংশীদারিত্ব ৭৩ রান যোগ করে দলকে ১৪৬ রানের মোট স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এই অংশীদারিত্বের শেষে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য অর্জন হয় এবং তারা ম্যাচটি জয়ী হয়।
এই পারফরম্যান্সের জন্য গ্লেন ফিলিপসকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় (Man of the Match) পুরস্কার দেওয়া হয়। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয়বারের মতো এই স্বীকৃতি, এবং নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে তার নয়টি ম্যাচ‑সেরা পুরস্কার তাকে দলের অন্যতম সফল খেলোয়াড় করে তুলেছে। এই রেকর্ডে শুধুমাত্র মার্টিন গ্যাপটিলই বেশি, যিনি দশবার এই সম্মান পেয়েছেন।
ফিলিপসের এই জয়ী পারফরম্যান্স নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১২টি পঞ্চাশের পারফরম্যান্স রয়েছে, এবং এই ম্যাচে তিনি তার দ্বাদশ পঞ্চাশের শিরোনাম অর্জন করেন। তার ধারাবাহিকতা এবং আক্রমণাত্মক শক্তি দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গতি দেয়।
দলীয় দিক থেকে, নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং পারফরম্যান্সও প্রশংসনীয় ছিল। ফিলিপসের ত্রিক্যাচের পাশাপাশি, অন্যান্য ফিল্ডারদের সঠিক অবস্থান ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলকে অতিরিক্ত রানের সুযোগ থেকে বাঁচাতে সহায়তা করে।
বোলিং দিকেও নিউজিল্যান্ডের কিছু বিকল্প খেলোয়াড়রা অবদান রেখেছেন; যদিও ফিলিপসের একক ওভার থেকে কোনো উইকেট না গেলেও ছয় রানই দিলেন, যা দলের সামগ্রিক রেটকে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এই জয় নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যাত্রাকে সুদৃঢ় করে এবং দলকে সুপার‑ইট পর্যায়ে প্রবেশের নিশ্চিত করে। পরবর্তী ম্যাচে দলকে কীভাবে এগিয়ে নিতে হবে তা এখনো নির্ধারিত, তবে ফিলিপসের আক্রমণাত্মক শৈলী এবং রাভিন্দ্রার সমর্থন দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে সাহায্য করবে।



