মস্কোতে বসবাসকারী এক বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞের মাসিক খাবার ব্যয় এক মাসে প্রায় ২২ শতাংশ বাড়ে, ৩৫,০০০ রুবল থেকে ৪৩,০০০ রুবলে পৌঁছায়। একই সময়ে, তার কর্মস্থলের পথে পান করা আমেরিকানো কফির দাম ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৩০ রুবল থেকে ২৯০ রুবল হয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশীয় সুপারমার্কেটগুলোতে প্রায় সব মৌলিক পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ডিম, মুরগির ফিলেট, মৌসুমী সবজি সহ মাংস, দুধ, লবণ, ময়দা, আলু, পাস্তা, কলা, সাবান, টুথপেস্ট, মোজা, লন্ড্রি ডিটারজেন্ট এবং বিভিন্ন ওষুধের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রাশিয়ার ফেডারেল বাজেটের অধিকাংশ অংশ যুদ্ধ ব্যয় ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে অর্থনীতিতে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা যায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে জীবনের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বড় শহরগুলোতে, বিশেষ করে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ জনগণের দৃষ্টিগোচর হয়নি। বড়খরচের অভ্যাস এবং পশ্চিমা আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের হ্রাস, এই পরিস্থিতিকে আড়াল করেছে।
২০২৫ সালে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি হঠাৎ ধীর হয়ে যায়। বেতন বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলাতে না পারায়, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি গৃহস্থালির ব্যয়ে প্রতিফলিত হয়।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে রোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে সুপারমার্কেটের গড় মূল্য ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এই বৃদ্ধি সব ধরনের পণ্যে সমানভাবে দেখা যায়, যা গৃহস্থালির বাজেটকে আরও চাপের মধ্যে ফেলছে।
বিবিসি ২০১৯ থেকে প্রতি জানুয়ারি মস্কোর প্যাটেরোচকা চেইনের একই ৫৯টি মৌলিক পণ্যের দাম সংগ্রহ করে তুলনা করে আসছে। এই ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ দেখায় যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যের উত্থান তীব্রতর হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির ফলে রাশিয়ার গৃহস্থালির ব্যয় বাড়লেও, সরকারী নীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এখনও মূলধন প্রবাহকে সীমাবদ্ধ রাখে। ফলে, ভোক্তাদের জন্য বিকল্প পণ্য বা সাশ্রয়ী মূল্যের সরবরাহ কমে যায়।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকে, তবে পরবর্তী কয়েক মাসে মৌলিক পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে, শীতের মৌসুমে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় গরম খাবার ও জ্বালানির চাহিদা বাড়বে, যা দামকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, তবে তা অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে আরও ধীর করতে পারে। তাই নীতি নির্ধারকদের জন্য ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোক্তাদের জন্য বর্তমান সময়ে বাজেট পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। স্থানীয় বাজারে বিকল্প পণ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যের ব্র্যান্ডের সন্ধান করা একটি বাস্তবিক কৌশল হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রাশিয়ার খাদ্য ও দৈনন্দিন পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা গৃহস্থালির আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ ব্যয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করছে, এবং ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।



